কূটনীতিক সুবিধা অপব্যবহারের দায়ে মিতসুবিশি পাজেরো আটক

উত্তরা থেকে উদ্ধার করা মিতসুবিশি পাজেরো

কূটনীতিক শুল্কমুক্ত সুবিধার অপব্যবহারের অভিযোগে রাজধানীর উত্তরার এক বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি বিলাসবহুল গাড়ি আটক করেছে শুল্ক গোয়েন্দারা।

শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতর সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উত্তরার ৪ নং সেক্টরের আশিকুল হাসিব তারিক নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে বিশেষ সুবিধায় আনা মিতসুবিশি ব্র্যান্ডের ওই গাড়িটির ওপর নজরদারি শুরু করে গোয়েন্দারা। গতকাল সোমবার গাড়িটি ঐ বাড়ির গ্যারেজ থেকে নিয়ে আসা হয়। আজ মঙ্গলবার কাগজপত্র যাচাই করে নিশ্চিত হয়ে গাড়িটি আটক দেখানো হয়।

শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, বাড়িটির মালিক সে সময় উপস্থিত না থাকলেও তার স্ত্রী গাড়ির কোনও কাগজ দেখাতে পারেননি। তিনি প্রথমে শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসহযোগিতামূলক আচরণ করেন। তবে তিনি মৌখিকভাবে স্বীকার করেন যে, গাড়িটি শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা হয়েছে ও তারা প্রিভিলেজড পারসন থেকে ক্রয় করেছেন এবং তা ইনকাম ট্যাক্স ফাইলে দেখানোর চেষ্টা করছেন।

উত্তরা থেকে উদ্ধার করা মিতসুবিশি পাজেরো

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় যে, গাড়িটি প্রিভিলেজ সুবিধায় শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করে তা ওই ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হয়।  আটককালে গাড়িটিতে হলুদ রেজিস্ট্রেশন প্লেট পাওয়া যায়। হলুদ নম্বর প্লেট সম্বলিত গাড়ি শুধুমাত্র প্রিভিলেজড পারসন ব্যবহার করতে পারেন।

কাগজপত্র যাচাই করে দেখা যায়, গাড়িটি প্রিভিলেজড সুবিধায় শুল্কমুক্তভাবে আমদানিকৃত। শুল্কমুক্ত হিসেবে ছাড় করা গাড়ি বিক্রি না করার শর্ত থাকলেও তা এক্ষেত্রে মানা হয়নি।

শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান জানান, গাড়িটি ইউএনডিপি-র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মি. স্টিফেন প্রিসনার শুল্কমুক্ত সুবিধায় এনেছিলেন। তবে তিনি অনুমতি না নিয়ে এবং শুল্ক পরিশোধ ছাড়াই গাড়িটি আশিকুল হাসিব তারিক নামের ওই ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করেছিলেন। এক্ষেত্রে তিনি শুল্কমুক্ত সুবিধার অপব্যবহার করে শুল্ক আইন ভঙ্গ করেছেন। তিনি অবৈধভাবে গাড়ি হস্তান্তর করে এর মধ্যে দেশ ত্যাগ করেছেন। এখন ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উত্তরা থেকে উদ্ধার করা মিতসুবিশি পাজেরো-২

একইভাবে, শুল্ক পরিশোধ না করে বর্তমান ব্যবহারকারী আশিক আইন ভঙ্গ করেছেন। হলুদ প্লেটের পদাধিকার না থাকলেও এটি ব্যবহার করে তিনি অসাধুতার আশ্রয় নিয়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি ইউএনডিপির সাবেক স্থানীয় স্টাফ ছিলেন। তবে তিনি প্রিভিলেজড পারসনের সুবিধাপ্রাপ্ত নন।

গাড়িটির আনুমানিক বাজার মূল্য ১ কোটি  টাকা। এ ব্যাপারে কাস্টমস অ্যাক্ট, ১৯৬৯ এর সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী আইনানুগ প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

/আরজে/টিএন/