ঈদে মিলাদুন্নবীতে সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদকে প্রতিহতের আহ্বান





শান্তি বজায় রাখতে হলে সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদকে প্রতিহত করতে হবে। শান্তির শত্রুদের পরাজিত করতে হবে। এটা ইসলামের দীক্ষা, শিক্ষা। জঙ্গিবাদীরা ইসলামের বন্ধু হতে পারে না। জঙ্গিবাদের উত্থান রুখে দাঁড়াতে ঐক্যবদ্ধভাবে গণজাগরণ সৃষ্টি করতে হবে। মঙ্গলবার দুপুরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়ার উদ্যোগে আয়োজিত আন্তর্জাতিক শান্তি মহাসমাবেশে দেশি-বিদেশি বক্তার এসব কথা বলেন।ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত শান্তি সমাবেশ





মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের বর্তমান ইমাম মাওলানা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী ওয়াল হোসাইনী আল্-মাইজভাণ্ডারী বলেন, ‘সুফিবাদ হলো শান্তি সম্প্রীতি ও মানবিক দর্শন। ইসলামের প্রকৃত চর্চা ও অনুশীলনে সুফিবাদই সঠিক পথ। তাই আইএস, আল কায়েদাসহ বিভিন্ন নামে বিশ্বে ত্রাস সৃষ্টিকারী জঙ্গিরা কখনও ইসলামের অনুসারী হতে পারে না। ওদের বড় পরিচয় ওরা সন্ত্রাসী, খুনি ও দুর্বৃত্ত। এদের কারণেই ইসলাম ও মুসলমানদের বদনাম হচ্ছে। এদের উত্থান রুখে দাঁড়াতে ঐক্যবদ্ধভাবে গণজাগরণ সৃষ্টি করতে হবে। এজন্য একমাত্র উপায় সুফিবাদের প্রচার-প্রসার বেগবান করা।’

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জশনে জুলুসে ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপনের আহ্বান জানিয়ে সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী বলেন, ‘মহানবী দুনিয়ায় শুভাগমন জগৎবাসী ও মানবজাতির জন্য আল্লাহ পাকের বিশেষ অনুগ্রহ রূপ। তাই, কৃতজ্ঞতার শুকরিয়া হিসেবে আমরা ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উদ্যাপন করি।’

ইরাক, সিরিয়া, ফিলিস্তিন, কাশ্মির ও মিয়ানমারের নিপীড়িত মুসলমানদের পাশে দাঁড়াতে তিনি আন্তর্জাতিক সংগঠন ও শক্তিধর দেশগুলোর শাসকদের প্রতি আহ্বান জানান। সংখ্যালঘু নিপীড়নে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে তিনি সরকারের প্রতি দাবি জানান।ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত শান্তি সমাবেশ

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘শান্তি বজায় রাখতে হলে সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদকে প্রতিহত করতে হবে, প্রতিরোধ করতে হবে। আমাদেরকেও সতর্ক থাকতে হবে। আজকে সন্ত্রাসী তৎপরতা একটা বৈশ্বিক সমস্যা। আমাদের দেশেও কিছু ঘটনা ঘটেছে। পবিত্র ঈদের দিনে ঈদের জামাতে যারা হামলা চালায় তারা কোনওদিন ইসলামের বন্ধু হতে পারে না। শোলাকিয়ার ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তারাই শান্তির শত্রু।’

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ। এখানকার জনগণ মানবিক ইসলামে বিশ্বাসী। জঙ্গিবাদ নির্মূলে মানবিক দর্শন সর্বস্তরের ছড়িয়ে দিতে হবে।’

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের সঙ্গে যারা জড়িত তারা ইসলামের পথ থেকে বিচ্যুত। নবী-ওলীদের পথেই ইসলামের পথ। যেকোনও মূল্যে এ পথের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকতে হবে।’

এদিকে জশনে জুলুস ও শান্তি মহাসমাবেশে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা অসংখ্য লোকজন ছাড়াও যুকস্তরাষ্ট্র, মরক্কো, ঘানা, ভারত, পাকিস্তান,ইন্দোনেশিয়া, মালেশিয়া, সিঙ্গাপুর, তিউনিশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের ইসলামী চিন্তাবিদ ও গবেষকরা এতে অংশগ্রহণ করেন। কয়েকটি দেশের প্রতিনিধি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। সমাবেশের শুরুতে কোরআন থেকে তেলওয়াত করা হয় এবং জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া হয়।ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে রাজধানীতে র‌্যালি বের হয়

সমাবেশে যোগ দেন মরক্কো থেকে আগত ড. আজিজ ইদ্রিসি, ইউক্রেন থেকে আগত মুফতী আহমদ তামিম, ভারত থেকে আগত মো. আব্বাস নিয়াজী, সিঙ্গাপুর থেকে লেয়াকত আলী বিন মো. ওমর, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ড. শেখ আহমদ তিজানী বিন ওমর, মালয়েশিয়া থেকে আগত শেখ ইসমাইল বিন কাশিম,তিউনিশিয়া থেকে আগত মাজেন শেরিফ, ড. খালেদ চৌকেট,সৈয়দ মাশুক-এ-মইনুদ্দীন, সৈয়দ হাসনাইন-এ-মইনুদ্দীন,আলমগীর খান ও মুফতী বাকী বিল্লাহ আল্-আযহারীর প্রমুখ।
সবশেষে সালাত সালাম শেষে দেশ, মুসলিম উম্মাহ ও বিশ্ববাসীর শান্তি-কল্যাণ কামনায় মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী ।

এর আগে রাজধানীতে সকাল ১০টায় জশনে জুলুস (ধর্মীয় শোভাযাত্রা) করে আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়া। দরবার শরীফের বর্তমান ইমাম শাহ্সুফি মাওলানা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী ওয়াল হোসাইনী আল্-মাইজভাণ্ডারী নেতৃত্বে ধর্মপ্রাণ মুসল্লির অংশগ্রহণে জশনে জুলুস হয়। ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে জশনে জুলুস (ধর্মীয় শোভাযাত্রা) বের হয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাব, পল্টন মোড়, কাকরাইল হয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এসে শান্তি মহাসমাবেশে মিলিত হয়। কলেমা তৈয়াবা, জাতীয় পতাকা, আঞ্জুমানের পতাকা এবং নানা ধরনের বাণী ও স্লোগান লিখিত ব্যানার-ফেস্টুন হাতে নিয়ে সারাদেশ থেকে আগতরা জশনে জুলুসে অংশ নেন। নারায়ে তাকবির, নারায়ে রেসালাত ও গাউসিয়তের ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয় চারদিক।

ছবি: সাজ্জাদ হোসেন

/সিএ/এআর/