দেশে তৃণমূল পর্যায়ে নাশকতা ও সন্ত্রাস প্রতিরোধে গ্রাম আদালতকে শক্তিশালী ও কার্যকর করতে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) নির্দেশ দিয়েছে সরকার। সামাজিক অস্থিরতা ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টের অপচেষ্টা রোধ এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে মাঠ প্রশাসনকে এ নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
পাশাপাশি গ্রাম আদালতে নিষ্পত্তিযোগ্য কোনও বিষয় নিয়ে থানা বা আদালতে মানুষকে যেন যেতে না হয়, সে ব্যবস্থাও নিতে বলা হয়েছে ওই নির্দেশে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মাকছুদুর রহমান পাটওয়ারি বাংলা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘গ্রাম আদালতকে শক্তিশালী করা হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে মাঠ প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে করে সমাজে অস্থিরতা কমবে, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকবে। নাশকতা ও সন্ত্রাস প্রবণতা কমে আসবে গ্রাম পর্যায়ে।’
মো. মাকছুদুর রহমান পাটওয়ারি জানান, ছোটখাটো অনেক বিষয়ে মানুষ থানায় বা আদালতে মামলা করতে চলে যায়। এতে করে মানুষের হয়রানি বাড়ে। তাড়াতাড়ি বিচার না পাওয়ায় অশান্তির সৃষ্টি হয়। তাই গ্রাম আদালতে স্বল্প সময়ে (তিন মাসের মধ্যে) ন্যায়বিচার পাওয়ার যে সুব্যবস্থা আছে, তা মানুষকে জানাতে হবে।
মাঠ প্রশাসনের জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা বিষয়টি সহজে করতে পারবেন বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রিপরিষদের এই অতিরিক্ত সচিব।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১২ ডিসেম্বর) এ সংক্রান্ত নির্দেশ দেওয়া হয় মাঠ প্রশাসনকে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ২০০৬ সালের গ্রাম আদালত আইন অনুযায়ী ৭৫ হাজার টাকা জরিমানাযোগ্য অপরাধের বিচার করার ক্ষমতা রয়েছে গ্রাম আদালতের। এজন্য ফৌজদারি বা দেওয়ানি আদালতে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। আর গ্রাম আদালতে ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য কোনও অর্থ খরচ করতে হয় না। আইনজীবীরও প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু গ্রাম আদালত সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা না থাকায় মানুষ থানা বা আদালতে গিয়ে বাড়তি অর্থ খরচ করে।
মন্ত্রিপরিষদের নির্দেশনায় বলা হয়, গ্রাম আদালতকে শক্তিশালী ও গতিশীল করতে জনপ্রতিনিধিদের সচেতন করতে হবে। বিনা খরচে, স্বল্প সময়ে (৯০ দিনের মধ্যে) হাতের কাছেই যে ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ আছে, তা সভা-সমাবেশ করে মানুষকে জানাতে হবে।
গ্রাম আদালতকে শক্তিশালী করার উদ্দেশ্য সম্পর্কে নির্দেশনায় বলা হয়, গ্রাম আদালত শক্তিশালী ও গতিশীল হলে থানায় ও আদালতে মামলার চাপ কমে যাবে। সরকারের এই পদক্ষেপ বাস্তবায়নে ইউনিয়ন পরিষদের জন্য নির্ধারিত আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটির সভা নিয়মিত আয়োজন করার ব্যবস্থা নিতে হবে।
উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভায় গ্রাম আদালতের মামলা সংক্রান্ত তথ্য আলোচ্যসূচিতে এনে তা পরীবিক্ষণ করতে হবে উপজেলা প্রশাসনকে। জেলা আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভার আলোচ্যসূচিতে এনে তা পরীবিক্ষণ করবে জেলা প্রশাসন।
গ্রাম আদালতকে শক্তিশালী করার বিষয়টি জেলার সব ফৌজদারি ও দেওয়ানি আদালতের নজরে আনতে হবে। ইউনিয়ন পরিষদের কর্ম-মূল্যায়নের ক্ষেত্রে গ্রাম আদালতকে গুরুত্ব দিতে হবে।
২০০৬ সালের আইনের ১৯ ধারায় গ্রাম আদালতের কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের সচেতন করতে হবে।
প্রয়োজনে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সচিবদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
এসএমএ/এএআর/
আরও পড়ুন:
‘ভিডিও দেখে হামার গা কেঁপে উঠেছে, পুলিশ তো হামার ঘরবাড়ি জ্বালিয়েছে’
পুলিশের দেওয়া আগুনের ভিডিও তদন্তে নেমেছে পুলিশ