এ বিষয়ে ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি তো পরিষ্কার ঘোষণা দিয়েছি, কওমি মাদ্রাসার স্বীকৃতি বা মানের ব্যাপারে আল্লামা আহমদ শফীর যে মতামত, তার সঙ্গে আমিও একমত।’
বৈঠকের তিনটি সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে,
১. কওমি মাদ্রাসার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে কোনও ধরনের সরকারি কর্তৃপক্ষ ও কমিশন গঠন এবং নিয়ন্ত্রণ , শিক্ষা পদ্ধতি,সিলেবাস ও মাদ্রাসা পরিচালনায় কোনোরূপ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ হস্তক্ষেপ ছাড়া দাওরায়ে হাদিসের সনদকে ইসলামের ইতিহাস ও আরাবি সাহিত্যে এমএ-এর সমমান প্রদান করা হলে গ্রহণ করা হবে। ২.কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদের মান গ্রহণ সম্পর্কে উল্লিখিত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে “কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদের মান বাস্তবায়ন কামিটি” নামে ২২ জন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। ৩. সনদের মান গ্রহণের বিষয়ে “কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদের মান বাস্তবায়ন কামিটি” ও সরকারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার জন্যে পাঁচ সদস্যের একটি ‘লিয়াজোঁ কমিটি’ গঠন করা হয়।
“কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদের মান বাস্তবায়ন কামিটি” নামে ২২ জন সদস্যের কমিটির সভাপতির দায়িত্বে থাকবেন আল্লামা শাহ আহমদ শফী। বাস্তবায়ন কমিটির বৈঠকে আহমদ শফী উপস্থিত না হতে পারলে দায়িত্ব পালন করবেন মাওলানা আশরাফ আলী। উক্ত কমিটিতে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ থেকে সাত জন, ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশ থেকে তিন জন, আযাদ দ্বীনি এদারায়ে তা’লীম বাংলাদেশ থেকে তিন জন, তানজিমুল মাদারিস আদ-দ্বীনিয়া বাংলাদেশ থেকে তিন জন, গওহর ডাঙ্গা বেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া বাংলাদেশ থেকে তিন জন এবং জাতীয় দ্বীনি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বাংলাদেশ থেকে তিন জনসহ মোট ২২ জন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। কমিটির সদস্যরা হলেন-বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া থেকে মাওলানা আশরাফ আলী, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, মাওলানা আনোয়ার শাহ, মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী, মাওলানা মুফতী ওয়াক্কাস, মাওলানা মাহফুজুল হক ও মাওলানা সাজেদুর রহমান। ইত্তেহাদুল মাদারিস থেকে মাওলানা সুলতান জওক নদভী,মাওলানা আব্দুল হালীম বুখারী ও মাওলানা আবু তাহের নদভী। আযাদ দ্বীনি এদারায়ে তা’লীম থেকে মাওলানা আব্দুল বাছীর, মাওলানা এনামুল হক ও হযরত মাওলানা ইউসুফ খাদীমানী। তানজিমুল মাদারিস আদ-দ্বীনিয়া থেকে মাওলানা মুফতী আরশাদ রহমানী, মাওলানা আব্দুল হক হক্কানী ও মাওলানা মাহমুদ আলম। গওহর ডাঙ্গা বেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া থেকে মাওলানা মুফতী রূহুল আমীন, মাওলানা আকরাম আলী, মাওলানা শামসুল হক। জাতীয় দ্বীনি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ, মাওলানা এমদাদুল্লাহ কাসেমী ও মাওলানা মুফতী মোহাম্মদ আলী।
পাঁচ সদস্যের ‘লিয়াজোঁ কমিটিতে আছেন, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস,মাওলানা মুফতী রূহুল আমীন,মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ,মাওলানা মাহফুজুল হক ও মুফতী নূরুল আমীন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় কওমি মাদ্রাসা শিক্ষানীতির খসড়া অধিকতর উপযোগী করতে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মতামত জমা দিতে বাংলাদেশ কওমি শিক্ষা কমিশনের মেয়াদ ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়িয়েছিল। অন্যদিকে গত ২৭ সেপ্টেম্বর কওমি মাদ্রাসা শিক্ষানীতির খসড়া পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মতামত জমা দিতে মাওলনা ফরীদ উদ্দীন মাসউদের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের কমিটি গঠন করেছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
সরকারের উদ্যোগে গঠিত কমিশন ও কমিটি প্রসঙ্গে ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, ‘এখন কমিটি বা কমিশন থাকবার প্রশ্ন নেই। আর কমিশনের যা কাজ ছিল, তা তো আগেই হয়ে গেছে।মানের ব্যাপারে আল্লামা আহমদ শফী কমিশন রাখতে চাইলে থাকবে, না হলে থাকবে না। আসলে আমরা কমিশন বা কর্তৃপক্ষ নয়, চাই মান। আর মানের রূপরেখা নির্ধারণ করবে গঠিত বাস্তবায়ন কমিটি। আর যদি কিছু করতেও হয়, সেটা আহমদ শফীর নেতৃত্বে কমিটি করবে। সরকার চাইলে রিপোর্ট জমা দেবো। না চাইলে নিজে থেকে আগ্রহ করে দেবো না। তবে এটা আমার ব্যক্তিগত একটা সংগ্রহে থাকবে। এটা যদি কখনও কোনও কাজে লাগলে আমার আপত্তি নেই। একটা কাজ শুরু হয়েছে, ওলামা কেরাম যদি মনে করেন কোনও সংযোজ ও বিয়োজনের সুযোগ তো রয়েছে। আমি নিজে কোনও প্রস্তাব দেবো না। সবাই আলোচনা করে যা করবেন তাই হবে।’
সরকার এসব সিদ্ধান্ত মেনে সনদের মান দেবে কিনা জানতে চাইলে ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, ‘আমিতো মনে করি, সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক হবে।আমিতো সব সময় আশাবাদি। মান রক্ষার জন্য একটি বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাঁচ সদস্যের একটি লিয়াজোঁ কমিটি করা হয়েছে। এই কমিটি সরকারের সঙ্গে বা অন্যান্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে। সরকার তো আগেই ঘোষণা দিয়েছে যে, ওলামা কেরাম যেভাবে চাইবে সেভাবেই হবে।’
/সিএ /এপিএইচ/