রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে সশস্ত্র বাহিনী গার্ড অব অনার প্রদান করে।
শুক্রবার সকাল দশটায় জাতীয় প্যারেড স্কোয়ারে বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করেন। কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি ও সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আবু এসরার রাষ্ট্রপতিকে অভ্যর্থনা জানান। কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা, সংসদ সদস্যরা, ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা এবং বৈদেশিক কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।
আইএসপিআর জানায়, এবারের বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর লে. জেনারেল জি এস সিহোতার নেতৃত্বে ২৭জন বীর যোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন। যারা আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করে একাত্তরে আমাদের বিজয়কে ত্বরান্বিত করেছিলেন। এছাড়া রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিনিধিরাও কুচকাওয়াজে উপস্থিত ছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের তত্ত্বাবধানে এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশনের ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সশস্ত্র বাহিনী, আধা সামরিক বাহিনী এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অংশগ্রহণ করে। কুচকাওয়াজে ২০০ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ১২০ ফুট প্রস্থ বিশিষ্ট একটি বিশাল জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করা হয়। বিজয় দিবস প্যারেডের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ৯ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং এবং সাভার এরিয়া কমান্ডার, মেজর জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, এবং উপ অধিনায়কের দায়িত্বপালন করেন ৮১ পদাতিক ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ টি এম আনিসুজ্জামান।
এছাড়া যান্ত্রিক বহরের অধিনায়ক হিসেবে ছিলেন ৯ আর্টিলারি ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু নোমান মো. শিব্বির আহমেদ।
কুচকাওয়াজের যান্ত্রিক বহরে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সম্বলিত সুসজ্জিত গাড়ি বহর প্রদর্শিত হয়। এছাড়া সেনাবাহিনীর প্যারাট্রুপাররা আকাশ থেকে অবতরণ করে কুচকাওয়াজকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলেন। বিভিন্ন যান্ত্রিক বহরের প্রদর্শনীর পরই শুরু হয় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর মনোজ্ঞ ফ্লাইপাস্ট ও এরোবেটিক ডিসপ্লে। বিমান বাহিনীর ফ্লাইপাস্টে নেতৃত্ব দেন এয়ার কমডোর মোহাম্মদ মফিদুর রহমান। কুচকাওয়াজ শেষে রাষ্ট্রপতি প্যারেডে অংশগ্রহণকারী সকল কন্টিনজেন্ট কমান্ডারদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
জেইউ /এপিএইচ/
আরও পড়ুন: বিজয় র্যালিতে সাম্প্রদায়িকতা প্রতিহতের অঙ্গীকার