বন্ধু মিডিয়া ফেলোশিপ অ্যাওয়ার্ড পেলেন জাকিয়া আহমেদসহ ১০ সাংবাদিক

অতিথিদের সঙ্গে বন্ধু মিডিয়া ফেলোশিপ অ্যাওয়ার্ড-২০১৬ বিজয়ীরা

হিজড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে ভূমিকা রাখায় ‘বন্ধু মিডিয়া ফেলোশিপ অ্যাওয়ার্ড ২০১৬’ পেয়েছেন বাংলা ট্রিবিউনের সিনিয়র রিপোর্টার জাকিয়া আহমেদসহ ১০ সাংবাদিক। ১৮ ডিসেম্বর রবিবার রাজধানীর কাওরান বাজারে অবস্থিত ডেইলি স্টার ভবনের এএস মাহমুদ সেমিনার হলে বিজয়ীদের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।  

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি প্রধান তথ্য কমিশনার মো. গোলাম রহমান বলেন, ‘তৃতীয় জনগোষ্ঠী বা তৃতীয় লিঙ্গ শব্দটি আমার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। যতই আমরা বলি, সরকার তাদেরকে স্বীকৃতি দিয়েছে তারপরও সামাজিকভাবে মনে হয় এটি অনেক দূরের বিষয়। তারা আমাদের মতোই মানুষ, সমাজে তাদেরকে সবার সঙ্গে একত্রে থাকতে হবে। সুতরাং একসঙ্গে থাকার যে চ্যালেঞ্জ, যে সামাজিক ট্যাবু, সামাজিক স্টিগমা সেগুলোকে অ্যাড্রেস করতে হবে, নয়তো সমাজে তারা এমন পৃথক হয়েই থাকবেন।’

তিনি আরও বলেন, হিজড়াদের বিষয়টি এখনও অনেকের কাছেই পরিষ্কার নয়।এর ভেতরে অনেক জটিলতা এবং গভীরতা রয়েছে।মিডিয়া যা প্রচার করে সেগুলো বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর, তারা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকেই গুরুত্ব দেয়। কিন্তু যারা সংখ্যালঘু তাদের কণ্ঠস্বর ভেসে ওঠে না, ধীরে ধীরে তারা একসময় নীরব হয়ে যায়। এতে করে তারা নিস্পৃহ হয়ে যায়। এতে করে বোঝা যায়, বহুত্ববাদের যে সমাজব্যবস্থা বলতে যা বোঝানো হয় তা সহজ নয়। হিজড়াদেরকে তৃতীয় লিঙ্গ বলা হয়, কিন্তু তৃতীয় লিঙ্গ কেন বলা হবে-এটা প্রশ্ন আমার।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান মো মফিজুর রহমান সমাজের এমন এক পরিবেশের কথা বলেন, যেখানে হিজড়া জনগোষ্ঠী আর সবার সঙ্গে মিলেমিশে জীবনযাপন করতে পারেন। অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজের চেয়ারম্যাল ড. আবু জাফর মোহাম্মদ শফিউল আলম ভুঁইয়া, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরীসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন।

এবারে বন্ধু মিডিয়া ফেলোশিপ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন দশজন সাংবাদিক। অন্যরা হলেন, দ্যা ডেইলি স্টারের দিলশাদ করিম এলিটা, ঢাকা ট্রিবিউনের সাখাওয়াত হোসেন, দৈনিক ইত্তেফাকের জিফুল মুরাদ, পরিবর্তনডটকমের ওয়ারেসুননবী খোন্দকার, সিটি এফএম এর মাসুমা শারমীন, দৈনিক ভোরের কাগজের ম. শাফিউল আল ইমরান, বাংলাদেশ টেলিভিশনের খালিদ আহসান, এটিএন বাংলার ইমদাদুল্লাহ সিদ্দীকী, এসএ টিভির এম এ বাতেন।

/জেএ/টিএন/