জবানবন্দিতে সাইফুলকেই দায়ী করেছে শিশু পূজা

শিশু পূজাকে নির্যাতনকারী সাইফুল
জবানবন্দিতে নিজের ওপর নির্যাতনের কথা বলতে পেরেছে শিশু পূজা। তাকে কিভাবে নির্যাতন করা হয়েছে তা বলার পাশাপাশি আসামি সাইফুলকেই দোষী করেছে শিশুটি। পূজা জানিয়েছে, তাকে বোতলে করে কিছু একটা খাইয়েছিল সাইফুল। তারপর তার পা বেঁধে ফেলে। নির্যাতনের যাবতীয় বর্ণনা সে দিতে পেরেছে। তবে সে ঘুমিয়ে পড়ার পর অনেক বেশি শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে বলে সন্দেহ করছেন শিশুটির জবানবন্দি গ্রহণকারী পুলিশ কর্মকর্তা।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২২ ধারা অনুসারে পাবর্তীপুর থেকে জবানবন্দি নিতে আসা পুলিশের শিশুবান্ধব কর্মকর্তা এসআই মোমেন বাংলা ট্রিবিউনকে একথা জানান। তিনি বলেন, ‘জবানবন্দির সময় পূজা স্বাভাবিক ছিল। এবং আমরা অনেকটা কাউন্সিলিং এর মতো করে কাজটি সম্পন্ন করেছি।’

দুপুর দেড়টা থেকে শুরু করে চারটের কিছু আগে পর্যন্ত তার সঙ্গে কথা বলে জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। এসময় শিশুটির মা ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন। দুপুর দেড়টার কিছু আগে গোসল করে খেয়ে প্রস্তুত হয় পূজা। সোমবারের (১৯ ডিসেম্বর চেয়ে সে সামান্য চুপচাপ ছিল মঙ্গলবার। জবানবন্দি শুরুর আগে পূজা বাংলা ট্রিবিউনকে বলে, ‘আমি বাইরে যাব। আমি বাড়ি যাব। তুমি রোজ বাইরে যাও। হরে কৃষ্ণ ।’ পূজার নানী বলেন, ‘সে আপনার সঙ্গে সাবলীলভাবে কথা বলছে। পুলিশের সামনে সব বলবে কিনা সেটা ভাবছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘ওর ওপর যে ধরনের নির্যাতন হয়েছে এরপর ও আবারও স্বাভাবিক আচরণ করবে কিনা সেটা নিয়েই আমরা শঙ্কিত ছিলাম ।’

ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পূজাগত ১৮ অক্টোবর পার্বতীপুরের এই পাঁচ বছরের শিশুটি নিখোঁজ হয়। পরিবারের লোকজন অনেক খুঁজেও ওইদিন তার সন্ধান পায়নি। পরদিন ভোরে শিশুটিকে তার নিজ বাড়ির কাছে ফসলের ক্ষেত থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির চারদিন পর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ওসিসিতে নিয়ে আসা হয়।এখনও পূজা দাঁড়ালে কোমর কাঁপার কারণে আরেকদফা এমআরআই  করা হয়েছে রবিবার বলে জানিয়েছেন ওসিসির চিকিৎসকরা।

মামলার আসামি সাইফুল রিমান্ডে তার অপরাধ অস্বীকার করার কারণে পূজার জবানবন্দি জরুরি ছিল বলে জানান পার্বতীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদ। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অবিরাম অস্বীকার করে যাওয়া সাইফুলকে পূজা শনাক্ত করতে চাইলে দ্রুত চার্জশিট দেওয়া সম্ভব হবে। ঢাকায় তার চিকিৎসা চলছে ফলে আমরা ঢাকায়  থানার শিশুবান্ধব কর্মকর্তাকে জবানবন্দি আনার জন্য পাঠিয়েছি।’

শিশুবান্ধব পুলিশ কর্মকর্তা  মোমেন ঢাকায় পৌঁছান মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে। এরপর তিনি ওসিসিতে পৌঁছান বেলা দেড়টার দিকে। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এর আগেও আমাদের এক কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছিল কিন্তু তখন পূজা কথা বলার পরিস্থিতিতে ছিল না বলে জবানবন্দি নেওয়া যায়নি। গত ১৫ দিন ধরে সে ঠিকমতো কথা বলছে এবং স্বাভাবিক আচরণ করছে বলে এখান থেকে জানানো হয়। এরপর  আমাকে পাঠানো হয়েছে তার সঙ্গে কথা বলে জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার জন্য।’

/ইউআই  /এপিএইচ/