এর আগে হকার নেতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে গত ১১ জানুয়ারি নগরভবনে এক মতবিনিময় সভা করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। ওই সভায় মেয়র ঘোষণা দেন, কর্মদিবসের দিনের বেলায় ফুটপাতে কোনও হকার বসতে পারবে না। আজ রবিবার (১৫ জানুয়ারি) থেকে এ ঘোষণা কার্যকর করার কথা বলেন তিনি।
উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে মতিঝিল সড়কের দু’ধারে থাকা হকারদের সব স্থাপনা (চৌকি, বাক্স ইত্যাদি) বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। তবে অভিযানের খবর পেয়ে হকাররা আগেই তাদের মালামাল সরিয়ে নিয়ে যান।
বেলা ২টায় ২৫ নম্বর দিলকুশায় সাধারণ বীমা সদনের সামনের দেয়াল ভেঙে দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। ম্যাজিস্ট্রেট অভিযোগ করেন, এই দেয়ালকে কেন্দ্র করে হকাররা তাদের মালামাল নিয়ে বসে। এই ভবনের পাশে প্লাস্টিকের ছাউনি দিয়েও অনেক হকার বসে। তাই এগুলো ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে জানান নাজমুস শোয়েব।
বেলা আড়াইটায় মতিঝিল জনতা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ফুটপাতে নির্মাণাধীন প্যান্ডেল অতিক্রম করার সময় কিছুক্ষণ সেখানে অবস্থান নেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে ফুটপাতের ওই প্যান্ডেল না ভেঙেই দৈনিক বাংলা মোড়ের দিকে চলে যান ভ্রাম্যমান আদালত।
বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সামনে বেশ কয়েকজন হকারের বাঁধার মুখে পড়েন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় এক হকার নেতা রাস্তার ওপর শুয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের পথরোধ করেন। পুলিশ তাকে সরিয়ে দেয়। আরেক হকার এসে বাদানুবাদ শুরু করলে পুলিশ তার ওপর লাঠিচার্জ করে। এতে ওই হকার জ্ঞান হারালে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ ঘটনার পর পুরানা পল্টন এলাকায় হকাররা উচ্ছেদবিরোধী স্লোগান দিয়ে মিছিল করে। এক পর্যায়ে তারা সিটি করপোরেশনের বুলডোজার লক্ষ্য করে ঢিল ছুঁড়তে থাকে। তখন বুলডোজার দ্রুত স্থান ত্যাগ করে গুলিস্তানের দিকে চলে যায়। এরপর হকাররা পল্টন মোড়ে সড়কে অবস্থান নিয়ে সড়কটি বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে পুলিশ তাদের হটিয়ে দেয়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (পেট্রল) মো. মাজহারুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘উচ্ছেদের সময় একটি পক্ষ সমস্যা তৈরি করতে চেয়েছিল। তাদের প্রতিহত করা হয়েছে।’
হকাররা ফুটপাত থেকে উচ্ছেদের এই অভিযানের বিরোধিতা করলেও ঢাকা ডিএসসিসি মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বিকালে সাংবাদিকদের বলেন, ‘হকার উচ্ছেদের ঘোষণা বাস্তবায়নে একচুলও ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
আরও পড়ুন-
সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে গ্রিক দেবীর মূর্তি সরানোর দাবি হেফাজতের
/ওএফ/টিআর/