২০১৬ সালের ১৮ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন দেশের ১ লাখ ১ হাজার ৫২৪ জন মুফতি-আলেম। তাদের দস্তখত নিয়েই সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী মানবকল্যাণে শান্তির ফতোয়া প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার উদ্যোগে গৃহীত এই ফতোয়া এর আগে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি, মধ্যপাচ্যের ইসলামিক রাষ্ট্র, ওআইসির কাছে হস্তান্তর করেন ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ। এই ফতোয়ায় স্বাক্ষর করেছিলেন নারী আলেমরাও। দেশের ৯ হাজার ৩২০ জন নারী আলেম স্বাক্ষর করেন এই ফতোয়ায়। গত বছর ২ জানুয়ারি বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার উদ্যোগে শুরু হওয়া ফতোয়ায় গত ৩১ মে এক লাখ দস্তখত সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূর্ণ হয়।
এ প্রসঙ্গে ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, ‘জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ফতোয়া সারাবিশ্বের সামনে তুলে ধরার পরিকল্পনা আগে থেকেই ছিল আমাদের। এজন্য বাংলার পাশাপাশি ইংরেজি ও আরবি ভার্সনও প্রস্তুত করা হয়েছে। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বিপুলসংখ্যক ধর্মীয় ব্যক্তির এই অবদান আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের মর্যাদা বাড়িয়ে দেবে বহুগুণ।
দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন জানিয়ে ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, ‘জাতিসংঘে মহাসচিবের কাছে ফতোয়ার কপি হস্তান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে জাতিসংঘের কাউন্টার টেররিজম বিভাগের সেমিনার আছে। সেখানেও অংশ নেব। এছাড়া, মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টও আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। তাদের সঙ্গেও জঙ্গিবাদসহ বিভিন্ন বিষয়ে বৈঠক হবে। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে ৬ ফেব্রুয়ারির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।’
ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, ‘দেশের সব আলেম সম্মিলিতভাবে জঙ্গিাবাদের বিরুদ্ধে ফতোয়া দিলে ধর্মের সঙ্গে জঙ্গিবাদের যে সম্পর্ক নেই, তা বিশ্বের কাছে স্পষ্ট হবে। এতে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে।’
জানা গেছে, ২০১৫ সালে নভেম্বরে আইএস-বিরোধী ও জঙ্গিগোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ভারতের ১ হাজার ইমাম, মুফতি ও ইসলামি চিন্তাবিদের স্বাক্ষর সংবলিত একটি 'ফতোয়া' প্রকাশিত হয়। ফতোয়াটি জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছেও পাঠান তারা। ওই ফতোয়ায় বলা হয়, ‘ইসলাম সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আর আইএস সন্ত্রাসকে উসকে দিচ্ছে।’
আরও পড়ুন: জঙ্গিবাদবিরোধী ফতোয়া নিয়ে জাতিসংঘে যাচ্ছেন ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ
/এমএনএইচ/