শহীদ মতিউরের বাবা মো. আজহার আলী মল্লিক এখন অসুস্থ। ছেলের আত্মত্যাগের কথা মনে করে আজও গর্বে বুক ভরে ওঠে তার। জীবনের গোধূলি বেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহায্য-সহযোগিতা পেয়ে তিনি কৃতজ্ঞ।
বুধবার (২৫ জানুয়ারি) উত্তরায় আজাহার আলী মল্লিকের সঙ্গে দেখা করতে যান বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। এসময় উপস্থিত সাংবাদিকদের শহীদ মতিউরের বাবা বলেন, ‘১৯৬৯ সালের ২৪ জানুয়ারি আমার ছেলে মতিউর রহমান বঙ্গবন্ধুর মুক্তি ও আইয়ুব খানের পতনের আন্দোলন করতে গিয়ে শহীদ হয়েছিল। সেদিন প্রার্থনা করেছিলাম, মতিউরের রক্ত যেন বৃথা না যায়। সেদিন গণঅভ্যুত্থানের মুখে তারা বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে, বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। শহীদ মতিউরের রক্ত বৃথা যায়নি।’
প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আজাহার আলী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে নামমাত্র মূল্যে পাঁচ কাঠা জমি দিয়েছেন উত্তরার ১০ নম্বর সেক্টরে। ডেভেলপারকে দিয়ে ছয় তলা ফ্ল্যাটবাড়ি তৈরি করে ৬টি ফ্ল্যাট পেয়েছি, ৭০ লাখ টাকা পেয়েছি। মতিউরের মা আর বেঁচে নেই, সন্তান ও নাতি-নাতনিদের নিয়ে জীবনের শেষ দিনগুলো পার করছি।’
এসময় বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছেও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আজহার আলী মল্লিক। তিনি বলেন, ‘বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সহযোগিতার কথা আমি এবং আমার পরিবার কোনোদিন ভুলব না। তিনি সব সময় আমার পরিবারের খোঁজ-খবর নেন, সহযোগিতা করেন। আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের কাছে কৃতজ্ঞ।’
তোফায়েল আহমেদ আরও বলেন, ‘কারফিউর মধ্যে মতিউরের লাশ নিয়ে আমরা তার বাসায় গেলে মতিউরের মা বলেছিলেন, ‘যে জন্য আমার ছেলে জীবন দিয়ে গেল, সে রক্ত যেন বৃথা না যায়।’ আমরা শহীদ মতিউরের রক্ত বৃথা যেতে দেইনি। মতিউর তার বাবার কাছে বলেছিলেন, ‘বাবা, যারা শহীদ হন, তাদের জানাজায় লাখ-লাখ মানুষ হয়।’ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু মুক্ত হয়েছেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, শহীদ মতিউরের বাবা আজাহার আলী মল্লিককে ২০০৯ সালে নামমাত্র মূল্য ১ হাজার ১ টাকার বিনিময়ে উত্তরার ১০ নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর সড়কে ৫ কাঠার একটি প্লট দেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আরও পড়ুন-
সার্চ কমিটি নিয়ে কোনও বিতর্ক হতে পারে না: আ.লীগ
মন্ত্রীর নামের পাশে যুক্ত হলো ‘যুদ্ধাপরাধী’
/এসআই/এএআর/আপ-টিআর/