বিকল্প পথে কার্গো সেবা বাড়াচ্ছে বিমান

কার্গো সেবা বাড়াচ্ছে বিমান

কার্গো খাতে আয় বাড়াতে নানামুখী উদ্যোগ নিচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এরই অংশ হিসেবে নিজস্ব উড়োজাহাজের পাশাপাশি বিদেশি এয়ারলাইন্সের মাধ্যমেও কার্গো সেবা দিতে করছে চুক্তি। কার্গো নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বিকল্প পথে লন্ডনে যাচ্ছে বিমানের গ্রাহকের  মালামাল।  কার্গো সেবার পরিধি বাড়াতে ইতিহাদ এয়ারওয়েজ ও এমিরেট্স এয়ারলাইন্সের সঙ্গে চুক্তি করেছে বিমান।  বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চেয়ারম্যান এয়ারমার্শাল (অব.) মোহাম্মদ ইনামুল বারী বাংলা ট্রিবিউনকে এসব তথ্য জানান।

বিমান সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কার্গো সেবার পরিধি বাড়াতে ইতিহাদ এয়ারওয়েজ ও এমিরেট্স এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে বিমান। বিমানের গ্রাহকদের মালামাল ১৩টি রুটে পৌঁছে দিচ্ছে ইতিহাদ এয়ারওয়েজ। ইউরোপের ১৫টি রুটে পৌঁছে দিচ্ছে এমিরেট্স এয়ারলাইন্স। এজন্য ছয় মাস আগে ইতিহাদ এবং দেড় মাস আগে এমিরেটসের সঙ্গে ইন্টারলাইন এগ্রিমেন্ট করেছে।

কোড শেয়ারিং-এর মাধ্যম লন্ডনে বিমানের কার্গো পৌঁছে দিচ্ছে ইতিহাদ এয়ারওয়েজ। ঢাকা থেকে বিমানের উড়োজাহাজে কার্গো দুবাই পর্যন্ত পৌছে দেওয়া হয়, সেখান থেকে লন্ডন পৌঁছে দেয় ইতিহাদ এয়ারওয়েজ।

গত বছরের ৮ মার্চ নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে আকাশপথে লন্ডনে সরাসরি কার্গো পাঠানোর ওপর অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাজ্য। যুক্তরাজ্যের পরামর্শে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তার মান বাড়াতে ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান রেডলাইনের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে সিভিল এভিয়েশন অথরিটি। ব্রিটিশ এই কোম্পানিকে দুই বছরে ৭৩ কোটি ২৫ লাখ ৭৯ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে বাংলাদেশকে।

কার্গোর ক্ষেত্রে ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞার ফলে সামগ্রিকভাবে প্রভাব পড়েছে বিমানের  ২০১৫-১৬ অর্থবছরে আয়ে। বিমানের আর্থিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বিমান কার্গোর মাধ্যমে ৪০ হাজার ৯১১ টন মালামাল পরিবহন করেছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বিমানের কার্গো থেকে আয় হয়েছে ৩১৫ কোটি টাকা। গত অর্থবছরে যা ছিল ৩৯২ কোটি টাকা। গত ২০ ডিসেম্বর বিমানের বার্ষিক সাধারণ সভায় অনুমোদিত বার্ষিক প্রতিবদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বিমানের বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে উড়োজাহাজে গার্মেন্টস পণ্য নর্থ আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলোতে যায়। এছাড়া ওষুধ, সবজি, শুকনো খাবার, ফলমূল মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে রফতানি হয়। আমদানির ক্ষেত্রে বিমানের কার্গো সেবার মাধ্যমে দেশে আসে মোবাইল ফোন, গার্মেন্টস পণ্য, কাপড়, কম্পিউটার ও যন্ত্রাংশ চীন, হংকং, ইন্দোনেশিয়া, তাইওয়ান থেকে আসে। এছাড়া টেলিযোগাযোগ যন্ত্রাংশ আসে ইউরোপ থেকে। ওষুধ উৎপাদনের কাঁচামাল আসে ভারত ও চীন থেকে। আর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকেও ব্যক্তিগতভাবে আমদানি করা পণ্য আসে।

এ প্রসঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এয়ারমার্শাল (অব.) মোহাম্মদ ইনামুল বারী বলেন, ‘বিমান একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। বছর শেষে বিমানকে লাভ-লোকসানের হিসাব করতে হয়। অন্য এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে কোড শেয়ারিং-এর মাধ্যমে কার্গো সেবা বাড়াতে আমরা চেষ্টা করছি। ঢাকা-লন্ডন ফ্লাইট সপ্তাহে চারটি। প্রতি ফ্লাইটে বিশ টন কার্গো নেওয়ার সুযোগ ছিল, কিন্তু গত বছর মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে। এখন লন্ডন ফ্লাইটগুলোতে কার্গো খালি যাচ্ছে। এর ফলে বড় অংকের আয় হচ্ছে না। সরকারের সঙ্গে সঙ্গে আমরাও এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কার্গো সেবা সচল রাখতে আমরা ইতিহাদ এয়ারওয়েজের সঙ্গে কাজ করছি। ইতিহাদ এয়ারের সঙ্গে কোড শেয়ারিং করে লন্ডনে কার্গো পাঠানো হচ্ছে। এছাড়া, ইতিহাদের মাধ্যমে হংকং ঢাকা ফ্লাইটেও কার্গো সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছি। বিমানকে একটি ভালো অবস্থানে নিয়ে যাওয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

/এমএনএইচ/ 

আরও পড়ুন: তারেকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা