বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ সচিব সমিতির (বাপসা) ব্যানারে দাবি আদায়ে দুই দিনব্যাপী এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে সারাদেশ থেকে আগত ইউনিয়ন পরিষদের সচিবরা। তাদের অন্য দাবিগুলো হলো ইউপি সচিবদের পদবি পরিবর্তন করে ১০ম গ্রেডে (মুখ্য কর্মকর্তা) কর্মকর্তার মর্যাদা প্রদান ও সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা দিতে হবে।
অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, একুশ শতকে তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে দেশের সাধারণ মানুষের আর্থ সামাজিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও নাগরিক সেবাদানে ইউনিয়ন পরিষদ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানটি গ্রাম বাংলার প্রতিটি মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সব ধরনের নাগরিক সেবাদান, দারিদ্র্যনিরসন, দুর্যোগ, মহামারি, পারিবারিক কলহসহ যেকোনও ধরনের বিপদে-আপদে সর্বক্ষণ পাশে থাকে। ইউনিয়ন পর্যায়ে এমন কোনও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নেই, যেখানে ইউনিয়ন পরিষদের ছোঁয়া পাওয়া যাবে না। আর এই সব কাজে সবচেয়ে অবদান বেশি হলো ইউপি সচিবদের।
বক্তারা বলেন, ইউপি রাজস্ব তহবিলের আয়-ব্যয় কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন, সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উন্নয়ন তহবিলের আয়-ব্যয়ের দায়িত্ব পালন, তথ্য কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন, ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন পরিকল্পনা, বাজেট প্রণয়ন, অফিস ব্যবস্থাপনা ও হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনসহ বিভিন্ন ধরনের দায়িত্ব পালন করতে হয়।
বক্তারা আরও বলেন, এতসব দায়িত্ব পালন করার পরও বাংলাদেশে ৪ হাজার ৫৭১ জন ইউপি সচিবকে মাস শেষে বেতন নিতে হলে কেন্দ্রীয় সরকারের বরাদ্দপত্র, উপজেলা প্রশাসনের বরাদ্দপত্র এবং বরাদ্দের খাত অনুসন্ধান করতে হয়। সরকারি কর্মকর্তাদের সুযোগ সুবিধা থেকে ইউপি সচিবরা বঞ্চিত। চাকরি শেষে নিজের এবং পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তার জন্য নেই কোনও পেনশন ব্যবস্থা। যদিও অবসরকালীন কিছু টাকা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে কিন্তু সেই টাকা উত্তোলনে সচিবদের অনেক বেশি বিড়ম্বনার মুখোমুখি হতে হয়।
বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ সচিব সমিতির (বাপসা) সভাপতি শেখ হাবিবুর রহমান, মহাসচিব, মো. মাসুদ পারভেজ, আতাউল করিম, মো. জিয়াউর রহমান, মো. মাহবুবুল আলমসহ সারাদেশ থেকে আগত দুই শতাধিক ইউনিয়ন পরিষদের সচিবরা অংশ নেন।
/আরএআর/এমএনএইচ/