চলতি অর্থ বছরের প্রথম প্রান্তিকে রেমিটেন্স কমেছে: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত (ফাইল ছবি)গত অর্থ বছরের প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে রেমিটেন্স ১৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ কমেছে। গত অর্থবছরের প্রথম তিনমাসে রেমিটেন্স ছিল ৩ হাজার ৯৩৩ দশমিক ৬৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। চলতি অর্থ বছরের এ সময়ে রেমিটেন্স এসেছে ৩ হাজার ২৩২ দশমিক ১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। রবিবার জাতীয় সংসদে চলতি ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের প্রথম প্রান্তিকের বাজেটের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ও আয়-ব্যয়ের গতিধারা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ সংক্রান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন কালে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ তথ্য জানান।

রেমিটেন্স কমার কারণ উল্লেখ করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নত দেশগুলোর অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ধীর গতি, তেলের মূল্য হ্রাসের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে স্থবিরতা এবং ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য শক্তিশালী হওয়ার প্রবাস আয় কমতে পারে।’

প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী ৬টি চ্যালেঞ্জের কথা বলেন। এগুলো হলো  রেমিটেন্স প্রবাহ কম, সঞ্চয়পত্রের উচ্চহার, বার্ষিক ‍উন্নয়ন কর্মসূচি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত না হওয়া, দেশের শিল্প ব্যবস্থাপনায় মধ্যম ও উচ্চ পর্যায়ের প্রশিক্ষিত জনবলের অভাব, আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো ও ভারসাম্য আনা এবং অবকাঠামো উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায়র লক্ষ্যে প্রশাসনিকসহ বিভিন্ন বিষয়ে সংস্কারকরণ। অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে এই ৬টি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তার গৃহীত পদক্ষেপগুলোও তুলে ধরেন।

প্রবাসী আয়ের পরিস্থিতি প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ডিসেম্বর ২০১৫ থেকে জুন ২০১৬ পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য পরিমাণে প্রবাস নিয়োগ হলেও প্রবাসী আয়ে গতিশীলতা আসেনি।’ মধ্যপ্রাচ্যের ৬টি দেশ হতে প্রবাসী আয়ের ৫৮ শতাংশ আসে উল্লখ করে তিনি বলেন, ‘বিগত অর্থ বছরের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় চলতি অর্থবছরের একই সময়ে ৫৮ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবাস নিয়োগ বৃদ্ধি সত্ত্বে এসব দেশ থেকে এ সময়ে প্রবাসী আয় কমেছে ১০দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে। প্রবাসীরা অপেক্ষাকৃত কম বেতনে চাকরি নিয়ে তাদের কর্মস্থলে বহাল থাকায় তাদের রেমিটেন্স কমাতে হয়েছে।’ তেলের মুল্য কিছুটা স্বাভাবিক হলে এব দেশ থেকে প্রবাসী আয় প্রবাহ স্বাভাবিক হবে বলে অর্থমন্ত্রী মনে করেন।

/ইএইচএস/এমএনএইচ/