মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বইমেলাকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে এসে তিনি এসব কথা বলেন।
পুলিশের নজরদারি মুক্তচিন্তায় বাধা হয়ে দাঁড়াবে কিনা এমন প্রশ্নে কমিশনার বলেন, ‘মুক্তচিন্তা ও নিরাপত্তা দুটোকে মিলিয়ে ফেললে হবে না। আমরা মুক্তচিন্তায় বিশ্বাসী। কিন্তু মুক্তচিন্তা করতে গিয়ে আপনি যতি কোনও মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেন, গোষ্ঠিগত দাঙ্গা সৃষ্টিতে উসকানি দেন, কারও মৌলিক অধিকারকে হরণ করেন তাহলে সেটা মুক্তচিন্তার মধ্যে পরে না।’
এসময় তিনি লেখক, প্রকাশক ও বাংলা একাডেমির উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশা করবো লেখক-প্রকাশক, বাংলা একাডেমি সব বই পর্যালোচনা করে বইগুলো স্টলে উঠাবেন। এমন কোনও বই যাতে প্রকাশিত না হয় যেটি মানুষের মৌলিক অধিকার ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে।’
বই প্রকাশে নজরদারির বিষয়টি কীভাবে নিশ্চিত করবেন এমন প্রশ্নে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘প্রথমে দায়িত্ব হলো প্রকাশকদের। তারা দেখবেন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার বিষয় আছে কিনা, গোষ্টীগত অনুভূতিতে আঘাত হানার বিষয় আছে কিনা, গোষ্ঠিগত দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করার মতো বিষয় আছে কিনা, নাগরিক অধিকারের বাইরে আঘাত হানে এমন বিষয় আছে কিনা। দ্বিতীয় দায়িত্ব হলো বাংলা একাডেমির। সর্বশেষ দায়িত্ব হলো আমাদের। আমাদের গোয়েন্দারা কাজ করবে। সর্বশেষ ফাঁক গলিয়ে কেউ বই আনলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কীভাবে নিশ্চিত হবেন প্রথমে দয়িত্ব হল প্রকাশকদের। তারা দেখবেন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার বিষয় আছে কিনা, গোষ্টীগত অনুভূতিতে আঘাত হানার বিষয় আছে কিনা।’
অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ড মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে কমিশনার বলেন, ‘যারা জড়িত ছিল তাদের সবাইকে চিহ্নিত ও শনাক্ত হয়েছে। মূল আসামি মুকুল রানা খিলগাঁওয়ে একটি অপারেশনে নিহত হয়েছে। আট আসামি গ্রেফতার হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চলছে। আমরা আশা করি খুব দ্রুতই অভিজিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করতে পারবো।’
এবার বইমেলাকে ঘিরে কোনও নিরাপত্তা হুমকি নেই বলেও জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, ‘তবে কোনও লেখক বা প্রকাশক অথবা কোনও ব্যক্তি যদি বিশেষ নিরাপত্তা ঝুঁকি মনে করেন তাহলে পুলিশ কন্ট্রোল রুম বা শাহবাগ থানায় জানানো হলে তাকে নিরাপত্তা দেওয়া হবে। তিনি যতক্ষণ চাইবেন ততক্ষণ পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে।’
এছাড়া অপ্রীতিকর ঘটনা, শ্লীলতাহানি, ছিনতাই ঠেকাতে পোশাকে পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিশেষ পুলিশ সদস্যরা সার্বক্ষণিক কাজ করবে। মেলা ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা জানিযেছেন ডিএমপি কমিশনার।
/আরজে/এফএস/
আরও পড়ুন-