এক অর্থ বছরেই (২০১০-২০১১) বিদ্যুৎ বিভাগের নিরীক্ষা আপত্তি ৮৮ কোটি এক লাখ ৩৯ হাজার সাতশত ৮৬ টাকা। বৈঠকে এই আপত্তি নিয়ে আলোচনা হয় এবং সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির সুপারিশ করা হয়।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করার পরও ৪৪২ জন গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করে বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে সরকারি এই সংস্থার দুই কোটি ৯৯ লাখ ৫৫ হাজার ১২৪ টাকা রাজস্ব অনাদায়ী রয়েছে। এছাড়া ১২ জন গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করে বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ায় সংস্থার ৩৫ কোটি ৫২ লাখ ছয় হাজার ৭৩১ টাকা রাজস্ব অনাদায়ী রয়েছে। এই টাকা আদায়ে গাফিলতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াসহ সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে টাকা আদায়ের সুপারিশ করা হয়েছে।
পিডিবির তফসিল বহির্ভূত আইটেমসহ বাজার দর যাচাই না করে ক্রয় করায় এবং এই খাতে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের কারণে ৩০ লাখ ৩৯ হাজার ৮৭০ টাকা ক্ষতি হয়েছে। এই বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনসহ সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে কমিটিকে জানানোর সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সিস্টেমলস সীমিত রাখার ব্যর্থতায় সরকারের ক্ষতি হয়েছে ছয় কোটি ৯৮ লাখ ৪৫ হাজার ৯৫৩ টাকা। এছাড়া বোর্ডের যানবাহন বোর্ড বহির্ভূত কর্মকর্তা কর্তৃক ব্যবহারের কারণে সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ১৪ লাখ ৩৪ হাজার ৭১২ টাকা।
সংযোগ বিচ্ছিন্ন ১ হাজার ৩৫৯ জন গ্রাহকের নিকট বিদ্যুৎ বিল বাবদ ৭ কোটি ৬১ লাখ ১৮ হাজার ৫৬৮ টাকা অনাদায়ী রয়েছে। এছাড়া সংযোগ বিচ্ছিন্ন ১১৯ জন গ্রাহকের নিকট থেকে বিদ্যুৎ বিল আদায় না করায় এক কোটি ৯ লাখ ২৮ হাজার ১১০ টাকা অনাদায়ী রয়েছে।
বিদ্যুতের ১০১ জন গ্রাহকের নিকট ১৯ লাখ ৩৯ হাজার ৬৮৪ টাকা, সিস্টেমলস সীমিত রাখতে ব্যর্থতাজনিত ক্ষতি ছয় কোটি ৩৬ লাখ ৪৯ হাজার ৩৪ টাকা, নিখোঁজ গ্রাহকের নিকট অনাদায়ে ৩৬ লাখ ২৯ হাজার ৭২৬ টাকা ক্ষতি এবং ১২২ জনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করে সুযোগ দেওয়ায় ২২ কোটি ৯ লাখ ২২ হাজার ২২১ টাকা ক্ষতি হয়েছে মর্মে নিরীক্ষা আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি অনাদায়ী টাকা আদায়ের সুপারিশ করেছে।
কমিটির সভাপতি ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে আরও অংশ নেন কমিটির সদস্য মো. আব্দুস শহীদ, মো. রুস্তুম আলী ফরাজী, মো. শামসুল হক টুকু ও বেগম ওয়াসিকা আয়েশা খান।
/ইএইচএস/এমএনএইচ/