নিয়াজ জামানের পদক পৌঁছে দেবে বাংলা একাডেমি!

নিয়াজ জামানঅসুস্থতার কারণে অমর একুশে গ্রন্থমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার নিতে আসতে পারেননি নিয়াজ জামান। একারণে তাকে পদক পৌঁছে দেবে বাংলা একাডেমি। যদিও পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকায় নাম আসার পর থেকে শুরু হওয়া সমালোচনার কারণে বাংলা একাডেমিই তাকে অনুষ্ঠানে না আসতে অনুরোধ করেছিল বলে বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন নিয়াজ জামান।

এখন তার পুরস্কারটি কী করা হবে প্রশ্নে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ড. শামসুজ্জামান খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ওনার কাছে পদক পৌঁছে দেওয়া হবে।’

ঘোষণার দিনের ছবি২০১৬ সালের বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ঘোষণার পর থেকে অনুবাদে নিয়াজ জামানকে দেওয়া পুরস্কার নিয়ে শুরু হয় তোলপাড়।কী করে বঙ্গবন্ধুর খুনি মেজর ডালিমকে প্রশংসা করে লেখা কলামের লেখককে এই পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হলো! সে বিষয়ে সমালোচনার ঝড় যখন তুঙ্গে তখন বাংলা একাডেমি বলছে, এটা কারও একক ভুল নয়- সম্মিলিত ভুল। ৩০ জনের সুপারিশ কমিটি থেকে পাঁচ জনের বাছাই কমিটি ঘুরে অনুমোদন কমিটির কাছে নাম আসে। এখানে ভুলটি বাংলা একাডেমির একার নয়।

চূড়ান্ত অনুমোদনআর এই তোলপাড়ের কারণেই যেকোনও অনাহুত পরিস্থিতি ঠেকাতে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে নিয়াজ জামানকে না আসার অনুরোধ জানানো হয় প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে। অধ্যাপক নিয়াজ জামানকে অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আসতে বারণ করে দেওয়া হয় বলে জানায় বাংলা একাডেমি সূত্র। ঘটনার সত্যতা জানতে চাইলে নিয়াজ জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কেবল এই কথা না, আরও  অনেক কিছুই জানাতে চাই আমি।’ আপনি অসুস্থ নাকি নিষেধের কারণে অনুষ্ঠানে যাননি প্রশ্নে তিনি বলেন,‘এসব নিয়ে কথা বলতে চাই না।’

তাহলে পুরস্কার পরে কোনও সময়ে নিতে যাবেন কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমি এর কিছুই জানি না। তবে আমাকে নিয়ে যে সমালোচনা শুরু হয়েছে, তা আমার নজরে এসেছে। খণ্ডিত বিষয় নিয়ে সমালোচনা করা সহজ।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে প্রাণে বাংলাদেশি। আমি বঙ্গবন্ধুর অবদান অস্বীকার করিনি কখনও। তাঁকে নিয়ে করা আমারই একটি কাজ, গতবছর বাংলা একাডেমি আমাকে অনুবাদ করতে অনুরোধ করে। বঙ্গবন্ধুকে আমি বঙ্গবন্ধু বলি না, এটা একেবারেই সত্য কথা নয়।’ মেজর ডালিমকে প্রশংসা করে লেখা বা বঙ্গবন্ধুকে ‘স্বভাবসুলভ একনায়ক’ বলে যে লেখা লিখেছেন সেসব বিষয়ে মন্তব্য করতে বললে তিনি বলেন,‘আবারও বলছি, খণ্ডিত তথ্য।’


একটি পত্রিকায় লেখা নিয়াজ জামানের সেই কলামসমালোচনার মুখে তার পুরস্কারটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে কিনা প্রশ্নে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ড. শামসুজ্জামান খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘না, আমরা তার পদক পুরস্কার পৌঁছে দেবো। এর বেশি আর কিইবা বলবো।’ প্রক্রিয়া বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটি কয়েক ধাপের মধ্য দিয়ে বের হয়ে আসে। যারা সুপারিশ করেছেন তারা ভালো বলতে পারবেন।’ তবে বাংলা একাডেমি এই কমিটির কারও নাম উল্লেখ করতে রাজি হয়নি।

এদিকে বাংলা একাডেমির একক কোনও দায় নেই বলে মনে করেন বাংলা একাডেমির কাউন্সিল মেম্বার কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘২৫ থেকে ৩০জন লেখকের সমন্বয়ে সুপারিশ কমিটি তৈরি করা হয়। তারা যাদের নাম বাছাই করে পাঠান, সেখান থেকে আবারও বাছাই করার পর সেটি অনুমোদনের জন্য আমাদের কাছে, মানে কাউন্সিলরদের সভায় আসে। সেখানে নোট অব ডিসেন্ট দেওয়ার কোনও বিষয় থাকে না, কেবল স্বাক্ষর করা। ফলে এককভাবে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালককে এটি নিয়ে দোষারোপের সুযোগ নেই ।’ নিয়াজ জামানের হাতে ১ ফেব্রুয়ারি তাহলে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়নি কেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি দেশে ছিলাম না। আজই ফিরেছি। বাংলা একাডেমির কাছে আমি বিষয়টি জানতে চাইব।’

/ইউআই  /এপিএইচ/