পাচার রোধে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ পরিবার চিহ্নিত করবে সরকার

নারী ও শিশু পাচারের প্রতিকী ছবি (ছবি: সংগৃহীত)নারী ও শিশু পাচার প্রতিরোধে একটি ভিন্নধর্মী প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাবত্য যাচাইয়ে কর্মসূচি চূড়ান্ত করছে সরকার। এর আওতায় কুমিল্লা, যশোর, সাতক্ষীরা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও কুড়িগ্রাম জেলাকে পাইলট এলকা ধরে পাচার ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ পরিবার চিহ্নিত করা হবে। পরে চিহ্নিত পরিবারগুলোকে স্বনির্ভর করার ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।  কর্মসূচি সফল হলে একটি প্রকল্পের আওতায় দেশব্যাপী এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদফতর। 

এ বিষয়ে মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের মহাপরিচালক সাহিন আহমেদ চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সমাজে নারী ও শিশুরাই সবচেয়ে বেশি অবহেলিত, ঝুঁকির সম্মুখীন ও নির্যাতনের শিকার হয়। তাই নারী ও শিশু  নির্যাতন বন্ধ করা এবং নির্যাতন ও পাচারের শিকার নারীদের সাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নিয়েছে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘অধিদফর সম্ভাব্যতা যাচাই করবে। কর্মসূচি সফল হলে ‘পাচার প্রতিরোধ ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার চিহ্নিতকরণ ও সেবা প্রদান উদ্ভোবনী’শীর্ষক উদ্যোগটি একটি প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে পরিচালিত হবে।’

অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, ‘কর্মসূচি বাস্তবায়নে একটি পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা তৈরি করেছে মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়।  রূপরেখা অনুযায়ী মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদফতর মাঠ পর্যায়ে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলার উপ-পরিচালককে চিঠি দিয়েছে। ওই চিঠিতে সংশ্লিষ্ট জেলা ও জেলার প্রত্যেক উপজেলায় কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে  আগামী ২৮ ফেব্রয়ারির মধ্যে মহিলা বিষয়ক অধিদফতরে  প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও এটুআই প্রোগ্রামের যৌথ উদ্যোগে ‘নাগারিক সেবায় উদ্ভাবন’ শীর্ষক একটি কর্মশালার মাধ্যমে ৫৯ জন মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এই প্রশিক্ষণের পর কর্মকর্তারা নিজ কর্মক্ষেত্রে গিয়ে কম খরচে, দ্রুত সময়ে এবং ভোগান্তিমুক্ত পরিবেশে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে উদ্ভাবনমূলক উদ্যোগ নেবে। সরকারি কর্মকর্তাদের এই উদ্ভাবনমূলক কাজে যুক্ত করার প্রয়াসে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় নারী ও শিশু পাচার প্রতিরোধে এই ব্যবস্থা হাতে নেয়।   

সরকার কুমিল্লা, যশোর, সাতক্ষীরা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও কুড়িগ্রাম জেলাকে পাইলট এলাকা হিসেবে ধরে  ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার চিহ্নিত  করে ওইসব পরিবারের সঙ্গে উঠান বৈঠক করে এবং সচেতনামূলক প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী করার উদ্যোগ নেবে।

/এসএমএ/এসএনএইচ/