বাংলাদেশে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন হয় না: মন্ত্রিপরিষদকে অর্থমন্ত্রণালয়

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

বাংলাদেশে কোনও প্রকার মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন হয় না বলে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করেছে অর্থমন্ত্রণালয়। সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে অর্থমন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এ তথ্য জানায়। সভায় সভাপতিত্ব করেন  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

সভায় শেষে সংবাদ সম্মেলনে  মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজকের সভায় মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে বাংলাদেশের মিউচ্যুয়াল ইভালুয়েশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং এর ফলাফল সম্পর্কে মন্ত্রিপরিষদকে অবহিত করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, বাংলাদেশে কোনও প্রকার মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন হয় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘সভায় বাণিজ্য সংগঠন আইন-২০১৬ এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ১৯৬১ সালের ইংরেজি এ আইনটি এখন বাংলায় রূপান্তর করতে হবে। তবে বর্তমানে বাণিজ্যে অনেক পরিবর্তন এসেছে। সেগুলোকে নতুন এ আইনে অন্তর্ভুক্ত করে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংসহ আবারও মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে।’

এছাড়া বৈঠক বাংলাদেশ চার্টার্ড অ্যাকাউন্টস আইন-২০১৭ এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ১৯৭২ সালের আইনটি ১৯৭৭ ও ১৯৮৬ সালে সামরিক সরকারের শাসনামলে সংশোধন করা হয়। এ জন্য আইনটি পরিমার্জন করে বাংলায় অনুসরণ করা হয়েছে। এ আইনে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং অ্যাক্টে চার্টার্ড অ্যাকাউন্টের যে সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে তা যুক্ত করতে হবে। তবে এ আইনের পুরাতন ৫ নম্বর ধারাটি বাতিল করে নতুন ধারা সংযোজন করা হয়েছে। নতুন ধারায় বলা হয়েছে- চার্টার্ড অ্যাকাউন্টস ইনস্টিটিউটে অ্যাসোসিয়েট ও ফেলো অ্যাসোসিয়েট নামে দুই ধরনের সদস্য থাকবেন। আর ৬(৪) ধারায় বলা হয়েছে, সনদ বাতিল ও মুলতবি করার ক্ষমতা থাকবে ইনস্টিটিউটের। এখানে ২৫ জনের কমিটি থাকবে। ভুয়া সদস্য ও ভুয়া সনদ প্রমাণিত হলে ১০ লাখ টাকা জরিমানা, তিন বছরে কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

বাংলাদেশে সার্বভৌম সম্পদ তহবিল গঠনের প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। আইনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩২ বিলিয়ন ডলার থেকে প্রতিবছর দুই বিলিয়ন ডলার করে নিয়ে পাঁচ বছরে ১০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠন করা হবে।  সরকার জনস্বার্থে এ তহবিল ব্যবহার করতে পারবে। এ টাকা ব্যবহারে পৃথক আইন ও কাঠামো তৈরি হবে। তারপর বোঝা যাবে কত টাকা সুদ হবে। যেকোনও জরুরি প্রয়োজনে এ তহবিল ব্যবহার করা যাবে। বিশেষ করে অনেক প্রকল্পে বিদেশি সহায়তা নেওয়ার ক্ষেত্রে শর্ত পূরণে ব্যবহার করা যাবে।

কৃষি কাজে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১৭ এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ। ১৯৮৫ সালের ইংরেজি অর্ডিন্যান্সটি বাংলায় রূপান্তর করা হবে। আইনটি ভঙ্গ করলে দুই হাজার টাকা জরিমানা ও সাত দিনের কারাদণ্ড হবে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইএমও) কর্তৃক প্রবর্তিত ‘ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন ফর দি কন্ট্রোল অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অব শিপস’ ব্যালেন্সড ওয়াটার অ্যান্ড সেডিমেন্টস (বিডব্লিউএম)-২০০৪ এর খসড়া অনুসমর্থনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।

/এসআই/এসএনএইচ/টিএন/