বিলে বলা হয়েছে, মোটর ভেহিক্যালস অর্ডিন্যান্স, ১৯৮৩ এর অধীনে প্রতিষ্ঠিত বিআরটিএ এমনভাবে বহাল থাকবে যেন এই আইনের অধীনে প্রতিষ্ঠিত।
বিলে কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা ও কার্যাবলীর বিষয়ে ৫ (ণ) ধারায় বলা হয়েছে, বিআরটিএ যানজট নিরসনে মোটরযান ও গণপরিবহনের সংখ্যা নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। এছাড়া মোটরযান চালনার লাইসেন্স প্রদান, মোটরযানের নিবন্ধন, ফিটনেস সার্টিফিকেট, রুট পারমিট, গতিসীমা নির্ধারণ, গণপরিবহনের ভাড়া নির্ধারণে সরকারের কাছে সুপারিশসহ বেশ কিছু ক্ষমতা থাকবে কর্তৃপক্ষের হাতে।
আইনটি পাস হলে পরিবার বা প্রতিষ্ঠান প্রতি গাড়ির সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণের ক্ষমতা পাবে বিআরটিএ।
বিলে কোম্পানি গঠনের ক্ষমতা দিয়ে বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষ সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে কোম্পানি আইন ১৯৯৪ এর অধীনে এক বা একাধিক কোম্পানি গঠন করতে পারবে।
প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীকে সভাপতি করে বিআরটিএ’র একটি উপদেষ্টা পরিষদ এবং বিআরটিএ চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে একটি পরিচালনা পরিষদ গঠিত হবে।
উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হবেন- ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, বাণিজ্য সচিব, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিব, রেল সচিব, নৌ-পরিবহন সচিবসহ সংশ্লিষ্ট দফতরের প্রতিনিধিরা। এছাড়া সরকার যে কোনও ব্যক্তিকে সদস্য হিসেবে নিতে পারবে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, সড়ক পরিবহন সেক্টরে শৃঙ্খলা আনয়ন, সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস, সড়ক নিরাপত্তায় গণসচেতনতা সৃষ্টি এবং জনসাধারণকে মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন, রুট পারমিট, ফিটনেস, ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু, নবায়ন ইত্যাদি ক্ষেত্রে দ্রুত উন্নত সেবা প্রদানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধির উদ্দেশে সরকার আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে।
মোটরযান ও সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাকে পরিকল্পিত, প্রযুক্তি নির্ভর, টেকসই, পরিবেশ বান্ধব ও দক্ষ করতে বিআরটিএ’র কর্মকাণ্ড পুনবির্ন্যাস, প্রশাসনিক ও প্রায়োগিক ক্ষমতাকে সুস্পষ্ট আইনি ভিত্তি প্রদান এবং বিআরটিএ’র কার্যাবলী ও ক্ষমতা সুনির্দিষ্টকরণ এই বিলের প্রধান বৈশিষ্ট্য বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
/ইএইচএস/এএআর/