বিদায়ী নির্বাচন কমিশনের কোনও ব্যর্থতা ছিল না বলে দাবি করেছেন সদ্য বিদায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিব উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘শত চেষ্টা করেও কয়েকটি দলকে যখন নির্বাচনে আনা যায়নি, তখন নির্বাচনে আগ্রহী রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে দেশের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার স্বার্থে আমরা নির্বাচন করেছি। ৫ জানুয়ারি নির্বাচন না হলে দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো। ’বুধবার বিকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
কাজী রকিবউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘দায়িত্ব নিয়েই আমরা বলেছিলাম, আমরা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করব। দায়িত্ব নেওয়ার পর ৬টি সিটি করপোরেশনে নির্বাচন করার মাধ্যমে আমাদের সেই (নিরপেক্ষতার ) অধিকার পূরণ করেছি।’ তিনি বলেন, ‘দায়িত্ব পালনের সময় অনেক রাজনৈতিক নেতা আমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আমাদের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। ওই সময় তারা এও বলেছেন, আমরা রাজনৈতিক কারণে বাইরে আপনাদের সমালোচনা করি। আপনারা এতে কিছু মনে করবেন না।’
সরকারি দলের চাপের বিষয়ে কাজী রকিবউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমাদের ওপর কোনও চাপ ছিল না । আমরা কখনও কারও ফোন কল পাইনি। এছাড়া ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে কখনও কেউ ফোন করেননি।’
নিজেদের কার্যক্রমের ব্যাখ্যা দিয়ে কাজী রকিব উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘শপথ নেওয়ার পর আমি বলেছিলাম, কাজে নিরপেক্ষতা প্রমাণ করব। পাঁচ বছরের মেয়াদে আমরা অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছি। তা সফলভাবে অতিক্রম করেছি। শেষে এসে বলতে পারি, আমরা জাতির সামনে নিরপেক্ষতা প্রমাণ করেছি। আমাদের মেয়াদে যেসব আইনি সংস্কার হয়েছে, তা কমিশনের কাজকে গতিশীল করেছে।’
২০১২ ও ২০১৩ সালের মধ্যে অনুষ্ঠিত ছয় সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে উল্লেখ করে সিইসি বলেন, ‘সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর বিএনপি এসে আমাদের অভিনন্দন জানিয়েছিল। এরপরও তারা ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন করেছিল। সেটা তাদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়।’
৫ জানুয়ারির নির্বাচনে দেড় শতাধিক আসনে বিনা প্রতিযোগিতায় জয়ী হওয়ার বিষয়ে কাজী রকিব বলেন, ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়ার বিষয়টি আইনেই আছে। মাঠ ছেড়ে দিলে তো প্রতিপক্ষ গোল দেবেই। এটা রাজনীতির খেলা। উন্নত বিশ্বে এর চেয়ে অনেক বেশি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনের রেকর্ড আছে।’
দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করার অভিযোগ সম্পর্কে সিইসি বলেন, আমরা নির্বাচন ব্যবস্থাকে দুর্বল অবস্থায় নিয়ে যাইনি। দেশে কথায় কথায় মারামারি বেড়ে গেছে। এটা এক ধরনের সামাজিক অবক্ষয়। মানুষের মধ্যে সহিষ্ণুতার অভাবের কারণে হানাহানি বেড়েছে। তবে এখন ধীরে-ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। নতুন কমিশনের সবাই অভিজ্ঞ, তারা সফল হবেন, এটাই আমরা আশা করি। ’
বিদায় সিইসি আরও বলেন, ‘আমরা যা কিছু করেছি তার সবই দেশের স্বার্থে, নিজেদের স্বার্থে নয়।’
উল্লেখ্য, বুধবার সর্বশেষ অফিস করার মাধ্যমে সিইসি কাজী রকিব উদ্দিন আহমদ, নির্বাচন কমিশনার আবদুল মোবারক, আবু হাফিজ ও জাবেদ আলী তাদের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ করেছেন। কমিশনার মো. শাহনেওয়াজের মেয়াদ শেষ হবে ১৪ ফেব্রুয়ারি। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি নতুন নির্বাচন কমিশনরা শপথ নেবেন।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ইতোমধ্যে সার্চ কমিটির সুপারিশে কেএম নুরুল হুদাকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আবদুল মোবারক ছাড়া অন্য কমিশনার ও কমিশন সচিবালয়ের সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।
ইএইচএস/এমডিপি/ এপিএইচ/এমএনএইচ/
আরও পড়ুন:
আমরা চাই না উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এমন কিছু ঘটুক: প্রধানমন্ত্রী