যে দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতে পদ্মা সেতু প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা ঋণ বাতিল করেছিল বিশ্বব্যাংক, সেই দুর্নীতির মামলাকে ‘অনুমানভিত্তিক’ বলে কানাডার একটি আদালতের দেওয়া রায়ের প্রতিক্রিয়ায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের একটি পোস্টে এ কথা বলেছেন জয়।
ওই প্রতিক্রিয়ায় জয় বলেন, ‘কানাডার কোর্ট পদ্মা সেতু দুর্নীতি মামলায় প্রকল্পটিতে কোনও দুর্নীতির প্রমাণ পায়নি এবং সব অভিযোগ বাতিল করে দিয়েছে। বিচারক বলেছেন ‘গাল-গল্প ও গুজব’-এর ওপর ভিত্তি করে সাক্ষ্য তথ্য সাজানো হয়েছে। অন্য কথায় বলতে গেলে, প্রসিকিউশন মামলা সাজিয়েছিল।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাংক ষড়যন্ত্র করেছিল উল্লেখ করে জয় লিখেছেন, ‘তারা ষড়যন্ত্র করেছিল তার (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) সম্মানহানির উদ্দেশ্যে। এরপর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বিশ্বব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছিল পদ্মা সেতুর ফান্ড যেন বাতিল করার মাধ্যমে আমাদের সরকারকে শাস্তি দেওয়া হয়। সে তা করেছিল কারণ মুহাম্মদ ইউনূস বারবার তাকে বলছিল আমার মায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য।’
জয় নিজে বেশ কয়েকবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে হিলারি ক্লিনটনের তফর থেকে ইউনূসকে মোকাবিলা না করার হুমকি পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন প্রতিক্রিয়ায়। তিনি আরও লিখেছেন, ‘তার (ড. মুহাম্মদ ইউনূস) কারণে বিশ্ব ব্যাংক বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প বন্ধ করতে চেয়েছে যা কিনা কোটি কোটি লোকের উপকারে আসবে এবং আমাদের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের মানুষের জীবন বদলে দেবে। ইউনূস ইচ্ছাকৃতভাবে চেষ্টা করেছে বিদেশি শক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশের ক্ষতি করতে।’
দেশের সুশীল সমাজের তথাকথিত একটি অংশ মোহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে মিলে বিশ্বব্যাংকের স্বার্থে দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল উল্লেখ করে জয় লিখেছেন, ‘এরা কিছু অতি সম্মানিত, যোগ্য ও কঠোর পরিশ্রমী লোকেদের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে কাঁদা ছুড়েছে। সেই সম্মানিত লোকেদের অন্যতম আমার মায়ের উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান। বাংলাদেশের বিপক্ষে গিয়ে যারা একটি পক্ষ নিয়েছে, এরা দেশদ্রোহী।’
জয় আরও লিখেছেন, ‘এদের সবার উচিৎ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার আওয়ামী লীগ সরকার এবং যেসব সম্মানিত লোকদের তারা আঘাত করেছে তাদের কাছে ক্ষমা চাওয়া। প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের কাছে এদের ক্ষমা চাওয়া উচিত।’
আরও পড়ুন-
বিশ্বব্যাংকের অভিযোগটি পদ্মা সেতু ও আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ছিল: সৈয়দ আবুল হোসেন
বাংলা ট্রিবিউনকে বিশ্বব্যাংক: পদ্মাসেতু নিয়ে আমাদের পর্যবেক্ষণ আগেই জানিয়েছি
/টিআর/