উচ্চশিক্ষার মান যাচাইয়ে অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল করতে সংসদে বিল উত্থাপন

জাতীয় সংসদউচ্চশিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল গঠনের বিধান রেখে ‘বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল বিল-২০১৭’ সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ রবিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিলটি উত্থাপন করেন। পরে বিলটি পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য তা শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।
বাংলাদেশে বর্তমানে ৩৮টি পাবলিক ও ৯৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। আইনটি কার্যকর হলে সব বিশ্ববিদ্যালয়কেই কাউন্সিল থেকে স্বীকৃতি নিতে হবে।
প্রস্তাবিত আইনে বলা আছে, একজন চেয়ারম্যান, চারজন পূর্ণকালীন ও আটজন খণ্ডকালীন সদস্য সমন্বয়ে কাউন্সিল গঠন করা হবে। কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের যোগ্যতা প্রস্তাব করা হয়েছে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কমপক্ষে ২৫ বছরের শিক্ষকতা ও অধ্যাপক হিসেবে কমপক্ষে ১০ বছরের অভিজ্ঞতা। আর ১০ বছর অধ্যাপক হিসেবে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের কাউন্সিলের সদস্য হওয়ার যোগ্যতা প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, কাউন্সিল উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদত্ত উচ্চশিক্ষারর গুণগতমান নিশ্চিত করতে কনফিডেন্স সার্টিফিকেট বা ক্ষেত্রমতো অ্যাক্রেডিটেশন সার্টিফিকেট প্রদান, স্থগিত বা বাতিল করবে।
বিলে বলা হয়েছে, সব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অ্যাক্রেডিটেশন সার্টিফিকেট সবার অবগতির জন্য কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। অ্যাক্রেডিটেশন সনদ ছাড়া কোনও প্রতিষ্ঠান অ্যাক্রেডিটেশনপ্রাপ্ত বলে প্রচার করতে পারবে না।
প্রস্তাবিত আইনে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ফ্রেমওয়ার্ক দ্বারা নির্ধারিত প্রমিত মানের শিক্ষা কাঠামোর ব্যত্যয় ঘটিয়ে, স্বনির্ধারিত কোনও শিক্ষা কাঠামোর আলোকে ডিগ্রি দিতে পারবে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে শিক্ষামন্ত্রী সংসদে বলেন, ‘উচ্চশিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতকরণের উদ্দেশ্যে দেশের সরকারি ও বেসরকারি সব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষা কার্যক্রমের অ্যাক্রেডিটেশন প্রদানসহ এর প্রাসঙ্গিক কার্যক্রম সমাধানের লক্ষ্যে একটি স্বতন্ত্র আইন প্রণয়নের প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। এ কারণেই আইনটি প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

আরও পড়ুন-

‘২০১৯ সালের ২৯ জানুয়ারির আগেই সংসদ নির্বাচন’

ষড়যন্ত্রকারীরা যাবেন পদ্মা সেতুর নিচ দিয়ে: হাছান মাহমুদ

/এইএইচএস/টিআর/