বিশ্বব্যাংকের কাছে ৮ হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি ১৪ দলের

বিশ্বব্যাংকদুর্নীতির মিথ্যা অভিযোগে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ বিলম্বিত হওয়ায় বিশ্বব্যাংকের কাছে ১০০ কোটি ডলার (৮০০০ কোটি টাকা) ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট। বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১৪ দলীয় জোটের বৈঠকে এ দাবি তোলা হয়।

বৈঠকের পর সাংবাদিকদের কাছে ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক পদ্মাসেতু নিয়ে মিথ্যা অভিযোগ তুলে অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশের ক্ষতি করেছে। এজন্য বিশ্বব্যাংকের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করছে ১৪ দল। মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে পদ্মা সেতু থেকে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন ফিরিয়ে নেওয়ার কারণে কাজের বিলম্বসহ অনেক ক্ষতি হয়েছে। তাই তাদের এক বিলিয়ন ডলার মঞ্জুরি হিসেবে দিতে হবে।’

যোগ করে নাসিম আরও বলেন, ‘তিন বছর আগে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়ন বন্ধ করে দেওয়ায় জাতির কাছে আমরা অসম্মানিত হয়েছিলাম, সারাবিশ্বের কাছে আমাদের ছোট করা হয়েছিল। তাদের অভিযোগ কানাডার আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের তৎকালীন সিদ্ধান্তকে আমরা নিন্দা জানাই। এখন তাদের জবাব জানতে চাই।’

১৪ দলের মুখপাত্রের দাবি, এই ষড়যন্ত্রের নাটের গুরু ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি একটি পক্ষকে খুশি করে নোবেল পুরস্কার নিয়েছেন বলেও মন্তব্য তার। নাসিম বলেছেন, ‘নোবেল পুরস্কারের প্রভাব খাটিয়ে একের পর এক ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছেন ইউনূস। তার প্রতিটি কাজেই দেশদ্রোহিতা স্পষ্ট। একটি চক্রকে সঙ্গে নিয়ে তার ষড়যন্ত্র দেশের উন্নয়নের অন্যতম নজির পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজকে বাধাগ্রস্ত করেছে।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মনে করেন; কানাডা আদালতের রায়ে প্রমাণিত হয়েছে, পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজে কোনও প্রকার দুর্নীতি হয়নি। তাই ১৪ দল মনে করে এসব ষড়যন্ত্রকারী ছাড়া পেতে পারেন না। জনগণের সামনে এনে দাঁড় করাতে হবে তাদের।

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, সাম্যবাদী দলের নেতা দিলীপ বড়ুয়াসহ ১৪ দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

/ইএইচএস/জেএইচ/