‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারের মহাপরিকল্পনা স্ববিরোধী’

তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির গণঅবস্থান কর্মসূচিবিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারের মহাপরিকল্পনাকে দেশের জন্য স্ববিরোধী আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে ও সুন্দরবন বিনাশী সকল অপতৎপরতা বন্ধ সহ সাত দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশ ব্যাপী সড়ক, মহাসড়ক ও রাজপথে গণঅবস্থান কর্মসূচিতে তিনি বলেন, ‘জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে উন্নয়নের নামে সরকার দেশের সম্পদ দেশি-বিদেশি লুটেরাদের হাতে তুলে দেওয়ার নীল নকশা তৈরি করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগামী ১৮ মার্চ তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে সুলভ ও টেকসই সমাধানের মহাপরিকল্পনা দেশের মানুষের সামনে প্রকাশ করবে। কম পয়সায়, বিদেশ থেকে ঋণ না নিয়ে, দেশের পরিবেশ নষ্ট না করে, বিদেশিদের আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ না দিয়ে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে সমস্যার সমাধান সম্ভব।’

সরকারের সমালোচনা করে আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘সচিবালয় ও মন্ত্রণালয় লুটেরাদের দখলে চলে গেছে। এজন্য তারা সুন্দরবনের গুরুত্ব বুঝছে না। সুন্দরবন ধ্বংস করার মাধ্যমে শুধু ভারতীয় কোম্পানির কাছে দেশের সম্পদ জমা দেওয়ার চক্রান্তই নয়, নিজেদের ব্যাংক ব্যালেন্স বৃদ্ধি করার জন্য বিদেশি কোম্পানির পক্ষে মিডিয়াতে বিজ্ঞাপনও চালানো হচ্ছে।’

জ্বালানি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তথ্য আর যুক্তি দিয়ে প্রমাণিত, গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন নেই। তবু বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন নাটকীয়ভাবে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করেছে, যা যুক্তিসঙ্গত নয়। গ্যাসের দাম বাড়লে পরিবহন ভাড়া বাড়বে, বিদ্যুতের দাম বাড়বে। এর ফলে উৎপাদন খরচও বাড়বে।’

গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে আগামী মঙ্গলবার সিপিবি-বাসদের ডাকা আধাবেলা হরতালে নিজেদের সংগঠনের সমর্থনের কথাও জানিয়েছেন এই অর্থনীতিবিদ।

তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক শেখ মুহাম্মদ সহিদুল্লার সভাপতিত্বে গণঅবস্থান কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য রাখেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা বহ্নিশিখা জিলানী, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক ফিরোজ আহমেদ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু প্রমুখ।  

/আরএআর/এএআর/