রাত ৯টার দিকে গাবতলী বাস টার্মিনালের পাশের একটি পুলিশ বক্সকে ঘিরে বিক্ষোভ শুরু করে পরিবহন শ্রমিকরা। কিছুক্ষণ পর সেটিতে আগুন ধরিয়ে দেয় তারা। গাবতলী টার্মিনাল এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। পুরো এলাকায় এখন বিরাজ করছে থমথমে পরিস্থিতি। ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার আমিনুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট পুলিশের পাহারায় ঘটনাস্থলে যাচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গাবতলীতে বিকেল থেকে সমাবেশ করেছে পরিবহন শ্রমিকরা। তাদের বিক্ষোভের মুখে কোনো দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যেতে পারেনি। সড়কের ওপর টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেছে তারা। একপর্যায়ে শ্রমিকরা গাড়ি ভাঙচুর শুরু করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় পুলিশের একটি র্যাকার ভ্যানে আগুন দেয় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যবহার করা হয়েছে পুলিশের সাঁজোয়া যান ও জলকামান। নিক্ষেপ করা হয় রাবার বুলেট ও টিয়ার সেল।
দারুসসালাম থানার ডিউটি অফিসার এসআই জাহাঙ্গীর বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ডিএমপির মিরপুর বিভাগের দারুসসালাম জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) সৈয়দ মামুন মোস্তফা রাত সাড়ে ৯টার পর বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এদিকে বুধবার (১ মার্চ) সকাল থেকে পূর্ণ কর্মবিরতি ও অবরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে পরিবহন শ্রমিক সমাবেশে। গাবতলীর ৭ নম্বর বাসের শ্রমিক দেলোয়ার হোসেন বলেছেন, ‘আমাদের দাবি মানতে হবে। তা না হলে আমাদের এই আন্দোলন চলবে।’
প্রসঙ্গত, মানিকগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় পরিচালক তারেক মাসুদ ও চিত্রগ্রাহক মিশুক মুনীর নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় জামির হোসেন নামের এক পরিবহন শ্রমিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত। এছাড়া সাভারের এক দুর্ঘটনার মামলায় মীর হোসেন মীরু নামে অারেক চালককে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন সিএমএম আদালত। এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে পরিবহন শ্রমিকরা তাদের গাড়ি চালানো বন্ধ রেখেছেন।
/এআরআর/জেএইচ/