২০২১ সালের মধ্যে মুরগির উৎপাদন দ্বিগুণ করার আহ্বান কৃষিমন্ত্রীর

পোল্ট্রি গবেষণায় বিশেষ অবদান রাখায় অমৃতা পণ্ডিতকে প্যারাগন অ্যাওয়ার্ড প্রদান করছেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী২০২১ সালের মধ্যে ডিম ও মুরগির মাংসের উৎপাদন দ্বিগুণ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। একই সঙ্গে দেশীয় মুরগির জাত উন্নয়নে কাজ করতে বিজ্ঞানীদের এগিয়ে আসার জন্য বলেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) সকালে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় ওয়ার্ল্ড’স পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন-বাংলাদেশ শাখা (ওয়াপসা-বিবি) আয়োজিত দশম আন্তর্জাতিক পোল্ট্রি শো ও সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী এসব তাগিদ দেন।

মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, ‘সরকারের সময়োচিত পদক্ষেপের সুবাদে বার্ড-ফ্লুর প্রকোপ কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। এখন বিজ্ঞানী, গবেষক, পোল্ট্রি খামারি ও উদ্যোক্তাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। পোল্ট্রি শিল্পের উন্নয়নে বর্তমান সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।’

অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ বলেন, ‘হতাশাগ্রস্ত গ্রামীণ যুবক ও নারীদের উপার্জনের পথ দেখিয়েছে পোল্ট্রি শিল্প। তাদের প্রতি ক্ষুদ্র খামারিদের সহযোগিতায় হাত বাড়াতে হবে।’

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক আইনুল হক মনে করেন, পোল্ট্রি শিল্প বর্তমানে বেশকিছু চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন সময় রোগ-বালাইয়ের কারণে এ শিল্পের ওপর বিপর্যয় নেমেছে, সেই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন খামারিরা। তাদের জন্য আপদকালীন সময়ে প্রণোদনা এবং পোল্ট্রি শিল্পের অগ্রগতির স্বার্থে কর মওকুফ সুবিধা, কাঁচামাল ও অত্যাশ্যকীয় পণ্য আমদানিতে শুল্ক অব্যাহতি দেওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য তার।

একই সুরে ওয়াপসা-বিবি সভাপতি শামসুল আরেফিন খালেদ বললেন, ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ১৭টি লক্ষ্যের মধ্যে ৭টির সঙ্গেই পোল্ট্রি শিল্পের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তাই এ শিল্পকে আলাদাভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। অগ্রিম আয়কর (এআইটি) পোল্ট্রি উদ্যোক্তাদের জন্য যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অত্যাবশ্যকীয় কাঁচামাল আমদানির ওপর শুল্ক এবং এআইটি ২০২১ সাল পর্যন্ত রহিত করার দাবি জানাই আমরা।’

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. সাত্তার মন্ডল জানালেন, দেশের মোট খাদ্য সরবরাহের ১০.৩১ শতাংশ মাংস ও ডিম আসে পোল্ট্রি থেকে। সুতরাং এ শিল্পের উন্নতির জন্য নীতি-সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। তার কথায়, ‘কর আরোপের ক্ষেত্রে যৌক্তিকতা বিবেচনা করতে হবে। ক্ষুদ্র খামারি ও ব্যবসায়ীদের প্রশিক্ষণ ও ঋণ সহায়তা দিতে হবে।’

অনুষ্ঠানে পোল্ট্রি গবেষণায় বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ অমৃতা পণ্ডিতকে প্যারাগন অ্যাওয়ার্ড এবং বিপুল চন্দ্র রায়কে প্রদান করা হয় এহসানুল করিম অ্যাওয়ার্ড। এছাড়া পোল্ট্রি শিল্পের অগ্রপথিক হিসেবে প্রয়াত হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীকে দেওয়া হয়েছে মরণোত্তর আজীবন সম্মাননা।

অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন ওয়াপসা-বিবি সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল হক,ওয়াপসা-বিবি’র সাবেক সভাপতি মসিউর রহমান,ওয়ার্ল্ড’স পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশনের গ্লোবাল সেক্রেটারি জেনারেল ড.রোয়েল মুলডার।

/সিএ/জেএইচ/