পরিবহন ধর্মঘটে শাজাহান খানের ভূমিকা: লাভ-ক্ষতির হিসাব কষছে আ. লীগ

শাজাহান খানপরিবহন ধর্মঘট নিয়ে কিছুটা বিপাকে পড়লেও তা প্রত্যাহার করে শ্রমিকরা সড়কে ফিরে যাওয়ার পর কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে। দলটির নীতি-নির্ধারকরা মনে করছেন, ধর্মঘটের মধ্য দিয়ে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে সম্ভাব্য আন্দোলন ধামাচাপা পড়েছে। এখন শ্রমিক আন্দোলন প্রত্যাহার হওয়ায় সরকার ও ক্ষমতাসীন দলে উভয় দিক থেকে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এদিকে, শ্রমিক ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে সরকারের নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের ভূমিকায় দল ও সরকারের শীর্ষপর্যায়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শ্রমিক ধর্মঘট নিয়ে যে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে যাচ্ছিল, তার জন্য সম্পূর্ণরূপেই নৌমন্ত্রীকে দায়ী করছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায় থেকে মধ্যমসারির কেন্দ্রীয় নেতারা। যদিও শাজাহান খান তার জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে আসছেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নৌমন্ত্রী শাজাহান খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শ্রমিক অসন্তোষকে পুঁজি করে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক মহল নাশকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করে। শ্রমিকরা তা বুঝতে পেরেই ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘‘এই ধর্মঘট নিয়ে কেউ কেউ ‘ব্ল্যাম গেম’ করার চেষ্টা করছেন, এটা দুঃখজনক।’’   

দল ও সরকারের নীতি-নির্ধারকরা জানান, পরিবহন শ্রমিকদের আন্দোলন ছিল আদালতের রায়ের অসম্মতিতে। এটা তাদের দীর্ঘস্থায়ী করার কোনও উপায় ছিল না। ধর্মঘট তাদের প্রত্যাহার করে সড়কে ফিরতেই হতো। এছাড়া সরকার ধর্মঘট মুহূর্তের মধ্যে শেষ করে দিতে পারত। কিন্তু গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির আন্দোলন সরাসরি সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হতো। তাই এ আন্দোলন দমাতে হলে সরকারকে কিছুটা কৌশলী হতে হতো। তারা জানান, ধর্মঘটের মধ্য দিয়ে জনমুখী আন্দোলনের ব্যাপারটি এড়িয়ে যাওয়া গেছে।

আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর দুই জন নেতা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘট সরকারকে কিছুটা বেকায়দায় ফেলেছে ঠিকই, কিন্তু গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির আন্দোলনও বেকায়দায় ফেলতে পারত। এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গ্যাসের আন্দোলন ধামাচাপা পড়েছে, এটা সরকারের ও আওয়ামী লীগের জন্য অনেকটাই তৃপ্তির, স্বস্তির।’

ক্ষমতাসীন দলটির সভাপতিমণ্ডলীর একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে যারা আন্দোলন গড়ে তোলার বিভিন্ন ছক কষতে শুরু করেছেন, এই শ্রমিক ধর্মঘট তাদের সেই ছক এলোমেলো করে দিয়েছে।’ তিনি বলেন, শ্রমিকনেতা শাজাহান খান সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য হওয়ায় পরিবহন ধর্মঘট সরকারকে কিছুটা বেকায়দায় ফেলেছে। না হলে এই আন্দোলনও তেমন প্রভাব বিস্তার করতে পারত না।’

সম্পাদকমণ্ডলীর আরেক নেতা বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত জোট ৯২দিন অবরোধ ডেকে মানুষ পুড়িয়ে ও অগ্নিসংযোগ করে কিছু করতে পারেনি, সেক্ষেত্রে দুই দিনের ধর্মঘট আর কী করতে পারবে?’ অবশ্য তিনি বলেন, ‘এই ধর্মঘট আর একদিন স্থায়ী হলে, সরকারবিরোধী রাজনৈতিক মহল শ্রমিক আন্দোলনে জড়িয়ে পড়ে নাশকতা করার সুযোগ নিত। সেটা নিশ্চিত হয়েই এ ধর্মঘট প্রত্যাহার করার সম্ভাব্য সব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে। এ কারণে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজি জাফরউল্যাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে আরও নাশকতা হতে পারত। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের তাৎক্ষণিক উদ্যোগে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এগুলো মোকাবিলা করেই শেখ হাসিনার সরকার দেশ পরিচালনা করে যাচ্ছে।’

 /এমএনএইচ/   

আরও পড়ুন: 
আবার সেই শাজাহান খান!