নড়েচড়ে বসেছেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা

পরিবহন ধর্মঘটপূর্ব ঘোষণা ছাড়াই দুই দিনের পরিবহন ধর্মঘটের পর সরকারের কঠোর পদক্ষেপে নড়েচড়ে বসেছেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতারা। সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ মামলার একটি চূড়ান্ত রায় এবং অন্যগুলো বিচারাধীন থাকায় টনক নড়েছে তাদের। এর অংশ হিসেবে সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে ও শ্রমিকদের আইনি সহায়তা দিতে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে একটি কমিটি।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) রাতে বৈঠক করেছেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতারা। এখানে ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির সভাপতি এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা, মহাসচিব খন্দকার এনায়েতুল্লাহ।

বৈঠকে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে খন্দকার এনায়েতুল্লাহকে আহ্বায়ক করে গঠন হয়েছে চার সদস্যের একটি কমিটি। এ কমিটি পরিবহন শ্রমিকদের আইনি সহায়তা দেবে। একই সঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে জেলায় জেলায় গিয়ে বাস চালক ও শ্রমিকদের ওপর নজরদারি রাখবেন কমিটির সদস্যরা।

জানা গেছে, মালিক ও শ্রমিক মিলে রাস্তায় টহল দেবে। জেলা, টার্মিনাল থেকে প্রতিনিধিরা সড়কে থাকবেন যেন কেউ যাচ্ছেতাই ড্রাইভিং করতে না পারে ও দুর্ঘটনা কমে। কোনও অনিয়ম পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে সেই গাড়িকে তিন মাসের জন্য সাসপেন্ড করবে এই কমিটি।

নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির তথ্যমতে, গত মাসে দেশে প্রতিদিন গড়ে ১৫ জন নিহত ও ৪৬ জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনা ঘটেছে গড়ে ১৩টি। জানুয়ারির তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে বেড়েছে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির সভাপতি মশিউর রহমান রাঙ্গা বাংলা ট্রিবিউনকে বললেন, ‘মহাসড়কে নসিমন ও করিমনগুলো ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। চালকরা আগের মতো এখন আর মদ খেয়ে গাড়ি চালায় এমন অভিযোগ নেই। দ্রুত যাওয়ার জন্য পাল্লা দেওয়ার প্রবণতা কিছুটা রয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা কমিয়ে আনতে সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা করছি আমরা।’

সড়ক পরিবহন সমিতির সভাপতি আরও বলেন, ‘আইন আইনের গতিতে চলবে। শ্রমিকরা আপিল করবে। তাদের তো মামলা চালানোর ক্ষমতা নেই, তাই আমরা তাদের আইনি সহায়তা দেবো। সাভারের যে ঘটনা, সেটি ব্যক্তিগত কোন্দল ছিল, এটা কোন সড়ক দুর্ঘটনা নয়। ইচ্ছে করে মানুষ মারলে তাদের পক্ষ নেবো না।’

/সিএ/জেএইচ/