কোথায় গেল লক্কড়-ঝক্কড় বাস?

 

লক্কড়-ঝক্কড় বাসমতিঝিল-মোহাম্মদপুর রুটে চলাচলকারী মৈত্রী পরিবহন কোম্পানির ঢাকা মেট্রো-ব-১১-২০১৬ নম্বর বাসটি দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীতে চলাচল করছে। লক্কড়-ঝক্কড় হয়ে পড়লেও মেরামত করা হয়নি। ভাঙাচোরা আসন নিয়ে যাত্রী পরিবহন করে আসছিল এটি। রবিবার সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে বাসটিকে আটক করেন। একইসঙ্গে ডাম্পিংয়ের নির্দেশ দেন। জরিমানা করেন চালকের।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মামুন সরদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাসটি থামিয়ে চালকের কাছে কাগজপত্র চাইলে তিনি দেখাতে পারেননি। চালক বলেছেন, তার কাছে কোনও কাগজপত্র নেই।’

ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে বাসটি ২০ বছরের অধিক পুরনো। এর ফিটনেস সার্টিফিকেট নেই। তাই এটিকে পুলিশের হেফাজতে ডাম্পিংয়ের নির্দেশ দিয়েছি। পাশাপাশি চালক রুমনের ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।’ তিনি জানান, ‘সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিশ বছরের বেশি পুরনো বাস নগরীতে চলাচল করতে পারবে না।’

শুধু মৈত্রী পরিবহন কোম্পানিরই নয়, আরও অনেক কোম্পানির বাসই লক্কড়-ঝক্কড় হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন এগুলো প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়ে নগরীর বিভিন্ন রুটে চলাচল করছে। যাত্রীসেবার মান অত্যন্ত নিম্ন হলেও ভাড়া নেওয়া হচ্ছে নতুন বাসের মতো। এসব বাসের বেশির ভাগেরই বডিতে অসংখ্য আঁচড়ের দাগ। একটি আরেকটির সঙ্গে যখন-তখন ঘষাঘষি করে। ছাদ ভাঙা থাকায় বৃষ্টি হলে যাত্রীদের মাথায় পানি পড়ে। চালকরা কোনও শৃঙ্খলা মানেন না। যেখানে-সেখানে বাস দাঁড় করিয়ে যানজট সৃষ্টির করছেন।

রবিবার থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত তৎপর হওয়ায় লক্কড়-ঝক্কড় বাসগুলো রাজপথ থেকে উধাও হয়ে গেছে। এ কারণে সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে নগরীতে পরিবহন সংকট দেখা দেয়। অন্যদিকে অভিযানের খবর পেয়ে বেশ কিছু বাস ইতোমধ্যে নতুন রং মেরে রাস্তায় নামানো হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে মৈত্রী পরিবহন কোম্পানির বাস চালক (ভ্রাম্যমাণ আদালতে যার জরিমানা করা হয়) জানান, ‘অভিযানের খবর পেয়ে পুরনো বাসগুলো বেশির  ভাগই ঢাকার  বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকিগুলো গ্যারেজে রাখা হয়েছে। রাস্তায় নামানো হয়নি।’

বিআরটিএ এবং মালিক সমিতির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাজধানীর বিভিন্ন রুটে প্রায় পাঁচ হাজার বাস-মিনিবাস চলাচল করে। এর মধ্যে প্রায় ২০০ বাস বিশ বছরের পুরনো এবং প্রায় দুই হাজার বাসের বডি ও সিট ভাঙা। এগুলো বিভিন্ন কোম্পানির নামে চলাচল করছে। বাকিগুলোর চেহারা কিছুটা ভালো হলেও সেবার মান অত্যন্ত নিম্ন। ইতোপূর্বে বেশ কয়েক বার চেষ্টা করা হয় লক্কড়-ঝক্কড় বাসগুলো নগরী থেকে সরিয়ে দেওয়ার। কিন্তু প্রভাবশালী পরিবহন মালিকদের তীব্র বিরোধিতার কারণে সরকারের কোনও উদ্যোগই সফল হয়নি।

বিআরটিএ’র চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বর্তমানে কম্পিউটারাইজড পদ্ধতিতে যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা করা হয়। তাই যথাযথ পরীক্ষা ছাড়া কোনও গাড়ির ফিটনেস দেওয়া হয় না। বিআরটিএ’র অভিযানেও এসব বাস আটক করা হয়।’

অ্যাসোসিয়েশন অব বাস কোম্পানিজের সভাপতি খন্দকার রফিকুল হুদা কাজল রবিবার সন্ধ্যায় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঢাকার রাস্তায় বিশ বছরের বেশি পুরনো বাস তেমন নেই। তবে অনেক বাসের চেহারা খারাপ। এগুলোর বডি নষ্ট হয়ে গেছে। তাই প্রাথমিক দৃষ্টিতে এগুলোকে বিশ বছরের অধিক পুরনো বলে মনে হয়।’ তিনি বলেন, ‘আমরা অবশ্যই চাই নগরীর পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরে আসুক। কিন্তু ভ্রাম্যমাণ আদালত যেভাবে অভিযান চালাচ্ছে, শিগগিরই নগর পরিবহনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। রাস্তায় অনেক বাস কমে যাবে। ইতোপূর্বে বেশ কিছু নতুন বাস নামলেও বিআরটিএ-এর নতুন মেশিনে এগুলোর ফিটনেস করাতে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।

 আরও পড়ুন: রাজধানীতে ‘লক্কড়-ঝক্কড়’ গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান চলছে

/এমএনএইচ/