‘ইউরোপ-আমেরিকার চেয়ে জঙ্গি দমনে বাংলাদেশ সফল’


তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুবাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের ২০১৬ সালের প্রতিবেদনকে প্রত্যাখ্যান করে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, বাংলাদেশ ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও জঙ্গি দমনে সফল। সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।

সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর ২০১৬ সালের মানবাধিকার প্রতিবেদনে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরে।  

সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ইউরোপ-আমেরিকার চেয়ে জঙ্গি দমনে বাংলাদেশ বেশি সফল। বাংলাদেশে জঙ্গি তৎপরতা বাড়েনি। বরং সরকারের শূন্যসহিষ্ণু নীতিতে জঙ্গি সন্ত্রাস কমে এসেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গুটি কয়েক জঙ্গি-সন্ত্রাসী এখানেই গড়ে উঠেছে এবং এখানেই অশান্তির অপপ্রয়াসে লিপ্ত। এদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংযোগের কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আর এ পর্যন্ত যে বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটেছে, তার প্রতিটিতেই জঙ্গিরা বিফল হয়েছে। তারা পালাতে পারেনি, নির্মূল হয়েছে।’

জঙ্গি দমনে কোনও সামাজিক বা নাগরিক অধিকার ক্ষুন্ন হয়নি উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শেখ হাসিনার সরকার সংবিধানের কোনও অধিকার খর্ব করাকে সমর্থন করে না। একইভাবে বিচার বহির্ভূত কোনও হত্যাও সরকার সমর্থন করে না। কোনও বাহিনীর সেই অধিকার নেই। সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সম্মুখ সংঘর্ষে কেউ নিহত হলে তাকে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বলা ঠিক নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পৃথিবীর সব দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর প্রতি বছর তাদের পর্যবেক্ষণ রিপোর্ট প্রকাশ করে থাকে। অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে তাদের ঢালাও মন্তব্য প্রদান আমরা নীতিগতভাবে সমর্থন করি না। সর্বশেষ তারা যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে, আমরা তা প্রত্যাখ্যান করছি। কারণ তা যথাযথ তথ্যনির্ভর নয়। বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি দেখার বিষয়ে তাদের চশমাটা ভুল, দেখার চোখটাও ঝাপসা।’

বাংলাদেশে আইনের শাসন রয়েছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ সংবিধান ও আইন অনুযায়ী পরিচালিত। দেশের সব সংস্থাই সংবিধান ও আইনের পাশাপাশি সংবিধিবদ্ধ বিধি-প্রবিধি-নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হয়। সুতরাং আইন বহির্ভূত কোনও কাজ করার সুযোগ সরকার বা সংস্থা কারোরই নেই। কোথাও এর অন্যথা হলে আইনি প্রতিকার পাওয়ার ব্যবস্থাও সংবিধানে সুসংরক্ষিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে নিয়ে উন্নয়নে এগিয়ে যাওয়াই সরকারের নীতি। দেশের পোশাক শিল্প এখন আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পরিচালিত। শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি ও নিরাপদ পরিবেশ পাচ্ছেন। দেশের গণমাধ্যমও নজিরবিহীন বিকাশ লাভ করেছে। কিন্তু জঙ্গি সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষকতা, চরিত্রহরণ বা হলুদ সাংবাদিকতা কখনোই সাংবাদিকতা নয়। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়া ছাড়া কখনোই ইন্টারনেটের কোনও সাইট সাময়িক বন্ধ ছিল না। এনজিও পরিচালনার ক্ষেত্রেও নতুন কোনও বিধিনিষেধ আরোপিত হয়নি।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র দুটোই গণতান্ত্রিক দেশ। দুই দেশই বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে সন্ত্রাস দমন সহ বিভিন্ন বিষয়ে একসঙ্গে অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা উন্নত করার প্রয়াসই আমাদের লক্ষ্য।’

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার (৩ মার্চ) ২০১৬ সালের বৈশ্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের বার্ষিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। ওই প্রতিবেদনে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বলা হয়, বাংলাদেশে মানবাধিকারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড। এছাড়া অবৈধভাবে আটক, সরকারি বাহিনীর হাতে গুম, জঙ্গিদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ড, বাল্যবিয়ে, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, শ্রমিকদের জন্য অনিরাপদ কর্মপরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় ওই প্রতিবেদনে।

এসএমএ/এএআর/