১০ টাকার চাল আ. লীগের জন্য হবে বিজয় সহায়ক: কামরুল ইসলাম

খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম

সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি (১০ টাকা কেজির চাল) আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ের জন্য ‘বড় সহায়ক’ হিসেবে কাজ করবে বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। তার মতে, কর্মসূচিটি হবে আওয়ামী লীগের বিজয়ের জন্য ‘মাইল ফলক’।

খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত পঞ্চাশ লাখ উপকারভোগীর তালিকা খাদ্য অধিদফতরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ উপলক্ষে সোমবার দুপুরে খাদ্যভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী একথা বলেন। কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী এবং মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. আবদুল ওয়াদুদ দারা।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মনে করি, এই কর্মসূচিটিই আগামী জাতীয় নির্বাচনে আমাদের বিজয় অর্জনে সবচাইতে বড় সহায়ক হিসেবে কাজ করবে। যদি দশ টাকা কেজিতে পঞ্চাশ লাখ পরিবারকে চাল দিতে পারি, তাহলে এই কর্মসূচি নির্বাচনে বিজয়ের জন্য একটা মাইল ফলক হিসেবে কাজ করবে।’

কর্মসূচি বাস্তবায়নে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার কিংবা দুর্নীতিকে প্রশ্রয় না দেওয়ার দাবি করে মন্ত্রী বলেন, ‘অনিয়মের কারণে ১৩০ ডিলারের ডিলারশিপ বাতিল করা হয়েছে। জরিমানাও হয়েছে। এই যে যাদের ডিলারশিপ বাতিল হলো, জরিমানা হলো- এরা কারা? ডিলার তো কেউ বিএনপির লোক না। এরা আমাদের লোক। আমি কি তাদের ছাড় দিয়েছি? অভিযোগ পেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিচ্ছি। দুই লাখের বেশি কার্ড বাতিল করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক কোনও ব্যক্তি এখানে প্রভাব খাটালে আমরা কাউকে ছাড় দেবো না। এ নিয়ে কোনও অভিযোগ থাকলে আমাদের জানাবেন, ব্যবস্থা নেবো।  আমরা এই কর্মসূচিকে স্বচ্ছ ও বিতর্কের ঊর্ধে রাখতে চাই। তালিকা হবে ত্রুটিমুক্ত।’

মন্ত্রী জানান, হতদরিদ্র মানুষ টাকা জোগার করে যখন আসবে, তখন তাদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল কিনতে পারবে। তারা গেলেই ডিলার চাল দিয়ে দেবে, মাসের প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত যখনই যাক।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, নানাভাবে সরকার দারিদ্র্য দূরীকরণের চেষ্টা করছে। এরই অংশ হিসেবে সরকারি বিতরণ ব্যবস্থায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ কর্মসূচির আওতায় ইউনিয়ন পর্যায়ে ৫০ লাখ হতদরিদ্র পরিবারকে শুভেচ্ছা মূল্যে খাদ্যশস্য বিতরণ করা হচ্ছে। পঞ্চাশ লাখ পরিবারের সদস্য রয়েছে দুই থেকে তিন কোটি।

এ কর্মসূচির আওতায় পল্লি অঞ্চলে কাজের অভাবের সময়ে বছরে পাঁচ মাস (প্রথম প্রান্তিকে সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর এবং দ্বিতীয় প্রান্তিকে মার্চ ও এপ্রিল) প্রতি মাসে ৩০ কেজি চাল বিতরণ করা হচ্ছে। এই চালের দাম পড়ছে প্রতি কেজি দশ টাকা।

কর্মসূচির মাধ্যমে যারা সুবিধাভোগ করবেন, তাদের নির্বাচনের জন্য ইতিপূর্বে সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি সারাদেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে এ পর্যন্ত ৪৯ লাখ ১৩ হাজার ৫৪৭ জন সুবিধাভোগীকে তালিকাভুক্ত করেছে।

অনুষ্ঠানে খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. বদরুল হাসান জানান, এ কর্মসূচি শুরুর পর পত্রিকা ও অন্যান্য সূত্র থেকে প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে এ পর্যন্ত ২ লাখ ১৮ হাজার ৮৬৫টি কার্ড ও ১৩০টি ডিলারশিপ বাতিল করা হয়েছে।৩৭ জন ডিলারের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়েছে।ভ্রাম্যমাণ আদালত দোষীদের কাছ থেকে ১০ লাখ ৪ হাজার ১৬৮ টাকা জরিমানা আদায় করেছে। অনিয়মের জন্য ইতোমধ্যে খাদ্য বিভাগের দুই জন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও দুই জন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের হয়েছে।

মহাপরিচালক বলেন, ‘এবার উপকারভোগীদের নামের তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হলো। এতে কোনও স্বচ্ছল ব্যক্তি থাকলে তা সহজেই জানা যাবে। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. কায়কোবাদ হোসেন।

/ওএফ/ এপিএইচ/

আরও পড়ুন: 



মুফতি হান্নানকে বহনকারী প্রিজন ভ্যানে ককটেল হামলা, আটক ১