মঙ্গলবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকের পর শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এ কথা জানান।
দুপুরে কমিশনে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নানের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন। বৈঠকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন এবং মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিতি ছিলেন।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আক্তারুজ্জামানকে আহ্বায়ক এবং ইউজিসির কর্মকর্তা জেসমিন পারভিনকে সদস্য সচিব করে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন- অধ্যাপক এ কে এম শাহনেওয়াজ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবু হাসান চৌধুরী।
বৈঠকের পর শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘নিজেদের ক্যাম্পাসে ফেরাসহ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় করণীয় নির্ধারণে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি সমস্যা চিহ্নিত করে যে সুপারিশ দেবে, আমরা সেভাবেই ব্যবস্থা নেবো।’
‘আইন অমান্যকারী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে’ জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘কোনও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের পদক্ষেপ আমরা নেবো না। আমরা সবাইকে নিয়েই কাজ করতে চাই। দেশের সিংহভাগ শিক্ষার্থী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়ন করছে। আমরা শিক্ষার্থীদের বিপাকে ফেলতে চাই না। তাদের কথা চিন্তা করেই আমাদের ব্যবস্থা নিতে হবে।’
এদিকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী, ইউজিসির চেয়ারম্যান বরাবর স্থায়ী ক্যম্পাসে ফেরার ব্যাপারে আইন ও বিধি সংশোধনের দাবি জানিয়েছে। ওই আবেদনে বলা হয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও মানোন্নয়নের লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, তা অনুসরণ করছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। সরকারের আইন, বিধি ও নীতিমালা অনুসরণও অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসে ফিরতে পারছে না আইনি জটিলতার কারণে। স্থায়ী ক্যাম্পাসে ফিরতে বেশির ভাগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এরইমধ্যে জমি কিনেছে। অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয় রাজউক থেকে নকশাও নিয়েছে। কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার যে দীর্ঘসূত্রতা এবং বিধিমালার যে বিভিন্ন শর্ত রয়েছে, তা মেনে পরিকল্পনা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ করতে পারছে না। স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণে ব্যয় নির্বাহ করতে ব্যাংক ঋণও প্রয়োজন। এসব কারণে সংশ্লিষ্ট আইনের ধারা সংশোধন করারও আহ্বান জানায় সমিতি।
/এসএমএ /এপিএইচ/
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় পুলিশের ওপর বোমা হামলা, সন্দেহভাজন ২ জেএমবি সদস্য আটক