এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, ‘মধ্যপাড়া গলির খোলা ম্যানহোলগুলো যেন দুর্ঘটনা ঘটানোর অপেক্ষায় আছে। বাসা থেকে শিশুরা বাইরে বের হলেই আতঙ্কে থাকি, কখন বিপদ নেমে আসে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বিদ্যুতের লোডশেডিং হলে আমাদের আতঙ্ক বেড়ে যায়। এরই মধ্যে কিছু দুর্ঘটনা ঘটে গেছে।’ তিনি অভিযোগ করেন, ‘বিষয়টি সিটি করপোরেশনকে জানিয়েছি। তারা কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।’
মেরামত ও সংস্কার কাজ নিয়ে কর্তৃপক্ষের এমন অবহেলার কারণে শুধু মিরহাজীর বাগই নয়, নগরীর আরও বেশ কিছু এলাকার রাস্তাও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এসব এলাকার মধ্যে দক্ষিণ যাত্রাবাড়ীর বিদ্যুৎ গলির ড্রেনেজ পাইপ স্থাপন ও ম্যানহোল নির্মাণ করা হলেও সড়কটি ঢালাই করা হয়নি। জুরাইন কবরস্থান রোডও করা মেরামত হয়নি। মসজিদ সংলগ্ন গলির ম্যানহোলের ঢাকনা নেই।
জানা গেছে, রাস্তা মেরামত ও সংস্কার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশনা থাকলেও প্রভাবশালী ঠিকাদাররা তা মানছেন না। কর্তৃপক্ষও পারছে না এসব ঠিকাদারকে নিয়ন্ত্রণ করতে। সম্প্রতি ম্যানহোলে পড়ে মানুষ মারা গেলেও কর্তৃপক্ষের টনক নড়ছে না। তাই নগরবাসীর চলাচলও ঝুঁকিমুক্ত হচ্ছে না।
যোগাযোগ করা হলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মো. বিলাল বুধবার সন্ধ্যায় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এমনিতে আমাদের কোনও ম্যানহোল এখন আর ঢাকনাবিহীন নেই। তবে মিরহাজীর বাগের কাজটা যেহেতু নতুন ড্রেন লাইনের, সেহেতু আমি এখনই সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীকে বলে দিচ্ছি যাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়।’ তিনি বলেন, ‘আরও যেখানে যেখানে এমন সমস্যা রয়েছে, সেগুলো দ্রুত সমাধান করে দেওয়া হবে।’
একই সঙ্গে কর্তব্যে অবহেলার কারণে দোষীদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, বা কেন ফৌজদারি আইনের আওতায় আনা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করা হয়েছে। এছাড়া মৃত ব্যক্তির পরিবারকে কেন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
এর আগে ২০১৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর শাজাহানপুর রেলওয়ে কলোনিতে গভীর নলকূপের পাইপে পড়ে জিহাদ নামের এক শিশু মারা যায়। ২০১৫ সালের ৮ ডিসেম্বর শ্যামপুরের পালপাড়ার বড়ইতলায় ম্যানহোলের গর্তে পড়ে মারা যায় আরেক শিশু নীরব।
/ওএফ/ এপিএইচ/