সরকারের সমালোচকদের প্রতি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নয়ন চান, না গণতন্ত্র চান? গণতন্ত্র আছে বলেই উন্নয়ন হচ্ছে। গণতন্ত্রের মধ্য দিয়ে সরকার পরিচালনা করছি বলেই দেশের উন্নয়ন হচ্ছে। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। প্রতিটি কর্মকাণ্ডে জনগণকে সম্পৃক্ত করি। আর কিছু করি জনগণের কল্যাণে, তাদের ভাগ্য পরিবর্তনে।নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের কথা চিন্তা করে নয়। পতাকা পেলাম কি পেলাম না, ওটা নিয়ে আমার মাথা ব্যথা নেই।’
এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী যেখানে বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল বলা হচ্ছে, তখন কেউ কেউ বলছেন, না, শুধু উন্নয়ন করলে হবে না, গণতন্ত্র লাগবে। আর এটা কাদের মুখে শুনি? শুনি সেই লোকদের মুখে যারা জরুরি অবস্থার সরকার এলে তখন তাদের কাছে ওই সরকারকে খুব গণতান্ত্রিক মনে হয়। তাদের সঙ্গে বিগলিত হয়ে পদলেহন করতে শুরু করেন। তখন তাদের কাছে গণতন্ত্র ঠিক থাকে। জরুরি অবস্থার সরকার তাদের গুরুত্ব বাড়াতে পারে। একটি পতাকা পেতে পারেন। এটাই উনাদের আকাঙ্ক্ষা।’
সন্ত্রাস ও জঙ্গিবদের বিরুদ্ধ সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কথা স্পষ্ট। কোনও মতেই জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসকে আমরা প্রশ্রয় দেব না। যে উপায়েই হোক, এই জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমন করব। আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা চমৎকার কাজ করছে। এ জন্য এখনও আমরা শান্ত পরিবেশ রাখতে সক্ষম হয়েছি।’
দেশের দারিদ্র্যবিমোচন নিয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক ও গ্রামীণ ব্যাংকসহ অন্যান্য এনজিওর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সংসদ নেতা শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘দেশে প্রায় আড়াই হাজারের মতো এনজিও রয়েছে, যারা ক্ষুদ্র ঋণ দেয়।’ পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের উদ্বৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘কয়েকদিন আজে পেপারে দেখলাম, ব্র্যাক এবং গ্রামীন ব্যাংক নাকি প্রতি বছর ১ শতাংশ করে দারিদ্র্য হ্রাস করেছে। ব্র্যাক এদেশে কার্যক্রম শুরু করেছে ৭২ সালে আর গ্রামীণ ব্যাংক ৮৫ সাল থেকে। এই দুই জায়গা থেকে যদি বছরে এক শতাংশ করে দারিদ্র্য হ্রাস পেয়ে থাকে, তাহলে এতদিনে বাংলাদেশে তো দারিদ্র্য থাকেই না। শূন্যের কোটায় চলে যাওয়ার কথা বহু আগেই। কিন্তু গেল না কেন?’ কোন সরকারের আমলে কত শতাংশ দারিদ্র্য হ্রাস হয়েছে, তা খতিয়ে দেখার কথাও তিনি এ সময় বলেন।
দরিদ্র্য বিমোচনে তার সরকারের ভূমিকা তুল ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের দারিদ্র্য হার হ্রাস পাওয়ার বিষয়ে ১৯৯৬ সালে এবং ২০০১ সালে আমরা ক্ষমতায় আসার পর যেভাবে দারিদ্র্যের হার হ্রাস পেয়েছে। অতীতে কোনও সরকার বা কেউ পারেনি। আজকে আমাদের দারিদ্র্যের হার ২২ শতাংশে নেমে এসেছে। ১৯৯৬ সালে যখন ক্ষমতায় আসি তখন ৫৭ শতাংশ দারিদ্র্য ছিল। ২০০৯ এসে ৪৭ শতাংশ পেয়েছি। আজকে ২২ ভাগে নামাতে পেরেছি।
পরমানু বিদ্যুৎকেন্দ্র ও কয়লভিত্তিক রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বিষয়ে বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদের বক্তব্যের জবাবে সংসদ নেতা বলেন, ‘কিছু মানুষ আছে, কিছু করতে গেলেই খুঁত ধরার চেষ্টা করে। আমাদের এখানে যে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রটি হবে, তার ব্যবস্থাপনা অত্যাধুনিক। কাজেই এটা নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছুই নেই।’
/ইএইচএস/এমএনএইচ/