ফাল্গুনের বৃষ্টিতে দুর্ভোগ মালিবাগে

বৃষ্টিতে জমে যাওয়া পানিতে মালিবাগে দুর্ভোগে পড়েন পথচারীরা (ছবি: ফোকাস বাংলা)ফাল্গুনের বৃষ্টিতে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন রাজধানীর মালিবাগ এলাকার বাসিন্দারা। শুক্রবার (১০ মার্চ) রাতের টানা বর্ষণের পর শনিবার সকালে প্রধান সড়কে এসে বিড়ম্বনায় পড়েন এখানকার কর্মজীবী মানুষ। দিনভর তাদের কেটেছে ভোগান্তিতে। বছরের পর বছর এভাবে চলে এলেও এর অবসান হচ্ছে না।

মালিবাগ থেকে রেলগেট, শান্তিনগর ও রাজারবাগ পর্যন্ত সড়কের ওপর দীর্ঘদিন ধরে ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ চলছে। ফ্লাইওভারের একাংশ গত বছর চালু হলেও অবসান হয়নি নিচের সড়কের সমস্যার। ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় বৃষ্টির পানি জমে থাকছে সড়কে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সবচেয়ে খারাপ অবস্থা মালিবাগ সিরাজুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজের সামনে, মৌচাক থেকে মালিবাগ রেলগেট এবং রেলগেট থেকে আবুল হোটেল পর্যন্ত সড়কের।

বৃষ্টিতে জমে যাওয়া পানিতে মালিবাগে দুর্ভোগে পড়েন পথচারীরা (ছবি: ফোকাস বাংলা)সকালে এই সড়কে এসেই দুর্ভোগের মুখে পড়েন অনেকে। পুরো সড়কজুড়ে তখন পানি আর পানি। সড়কের এপার থেকে ওপার যেতেও রিকশা ছাড়া উপায় ছিল না তাদের। বেশি ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের। রিকশা না পেয়ে কর্মজীবীদের কেউ কেউ কাপড় ভিজিয়েই সড়ক পার হন।

ফ্লাইওভার প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী একেএম আমিরুজ্জামান শনিবার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত বছর আমরা ফ্লাইওভারের নিচের সড়ক মেরামত করে দিয়েছি। কিন্তু ডিপিডিসি ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের অনুমোদন নিয়ে সড়ক খুঁড়েছে। সিটি করপোরেশন ওই খোঁড়া অংশ দ্রুত মেরামত না করায় এ দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।’

বৃষ্টিতে জমে যাওয়া পানিতে মালিবাগে দুর্ভোগে পড়েন বাসিন্দারা (ছবি: ফোকাস বাংলা)ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. কুদরতউল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা ফ্লাইওভারের নিচের সড়কের দায়িত্ব ফ্লাইওভার প্রকল্পের জন্য এলজিইডিকে বুঝিয়ে দিয়েছি। তারাই সব দেখাশোনা করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ডিপিডিসির ক্যাবল স্থাপনের কাজ চলমান আছে। এটা শেষ হলে সড়ক মেরামত করে দেওয়া হবে। ডিপিডিসির খোঁড়া অংশ ছাড়া বাকিটা তো দেখছে এলজিইডি। ওই অংশের জন্য তো সিটি করপোরেশন দায়ী না।’

প্রসঙ্গত, এখন ফাল্গুন মাস চলছে। বর্ষা মৌসুম আসতে আরও অন্তত তিন মাস বাকি। নগরবাসীর মতে, এখনকার বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিতেই যদি দুর্ভোগের এ অবস্থা হয়, তাহলে বর্ষা মৌসুমে কি অপেক্ষা করছে?

/ওএফ/জেএইচ/