যুদ্ধাপরাধীদের ঘনিষ্ঠদের পাকিস্তানে চলে যাওয়া উচিত: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একাত্তরের গণহত্যার ঘটনা যারা ‍ভুলে যায় তাদের  বাংলাদেশে থাকার কোনও অধিকার নেই। যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে যাদের দররম-মহরম আছে, তাদের পাকিস্তানে চলে যাওয়াই উচিত। বাংলাদেশে তারা থাকলে এদেশের মানুষের ভাগ্য সব সময় দুর্ভাগ্যে পরিণত হবে।

শনিবার সংসদে উত্থাপিত ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস ঘোষণা বিষয়ক এক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ নেতা শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। দেশের উন্নয়ন যেন অব্যাহত থাকে, সেই কামনাও করেন তিনি।

একাত্তরের গণহত্যা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারা বিশ্বের সকল পত্রিকায় এসেছে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কিভাবে গণহত্যা করেছে। আমি নিজের চোখেও সেই বিভীষিকা দেখেছি। বাংলাদেশের এমন কোনও গ্রাম নেই যেখানে গণহত্যার চিহ্ন নেই। এত বড় একটা গণহত্যা, এত লোক মারা গেছে। ৩০ লাখ লোক মারা গেছে। ইয়াহিয়া নিজেই তো বলেছে, ৩০ লাখ লোক মেরে দিলে আর মেয়েদের রেপ করলেই বাঙালি ঠাণ্ডা হয়ে যাবে। ঠাণ্ডা হয়েছে না বাঙালি! বাঙালি ঠাণ্ডা হয়নি, বাঙালি যখন রুখে দাঁড়ায় তখন কেউ তাকে ঠাণ্ডা করতে পারে না। বাঙালিদের দাবায় রাখতে পারেনি। ইয়াহিয়া খানকে উন্মাদ হয়ে মরতে হয়েছে।

গণহত্যার জন্য পাকিস্তানিদের সঙ্গে আল বদর-রাজাকারদের সমানভাবে দায়ী করে শেখ হাসিনা বলেন, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তো পাকিস্তান থেকে এসেছিল। তাদের  এদেশের পথঘাট চেনার কথা নয়। তাদের পথঘাট চিনিয়েছে আল বদর, রাজাকার, আল শামস আর জামাত-শিবির। এরাই ছিল পাকিস্তানিদের বড় দোসর। যে গণহত্যা বাংলাদেশে হয়েছে তার জন্য পাকিস্তানি সামরিক শাসকরা যতটা দায়ী, আমাদের দেশের আল বদর, আল শামস, রাজাকার যারা এই পাকিস্তানিদের দালালি করেছিল, তারাও ততটা দায়ী। যুদ্ধাপরাধীদের হাতে আমাদের রক্তে খচিত পতাকা যারা তুলে দিয়েছে, তারাও কম দায়ী নয়। বাংলাদেশের মানুষকে অনুধাবন করতে হবে। এরা কখনও বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি। এজন্য তারা বার বার ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। এখনও তারা মিথ্যাচার করে যাচ্ছে।

সংসদে ‘গণহত্যা দিবস’ পালনের প্রস্তাব গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করে কলঙ্ক থেকে বাঙালিদের মুক্তি দেওয়া হোক। গণহত্যার বীভৎস রূপ যারা দেখেছে, তারা কখনও ভুলতে পারবে না। যারা সেই বীভৎস রূপ দেখেনি, তারা ভয়াবহতা বুঝতে পারবে না। কল্পনাও করতে পারবে না কী হয়েছিল।

এক বিতর্কিত ব্যক্তির সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমাদের দেশে কিছু দালাল রয়েছে। তাদের কথাও খুবই ‍দুঃখজনক। নিজেরই লজ্জা হয়, এই লোকটাকে আমি অবসরে যাওয়ার সময় মেজর জেনারেল পদে প্রমোশন দেই। এই জে এ খান তার বইয়ে লেখে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা নাকি ‘র’ (ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা) এর ষড়যন্ত্রে  এসেছে। দেশের স্বাধীনতা না এলে কি এই লোক মেজর জেনারেল হতে পারতো! আর আমার হাতেই তো তার পদোন্নতি হয়েছে। তারপর সে এই কথা লেখে কী করে! তার যদি এতটুকু লজ্জা থাকতো, ঘৃণা থাকতো, এটা লিখতে পারতো না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে এ ধরনের কিছু কুলাঙ্গার পয়দা হয়েছে বলে দুঃখ লাগে। তারা ওই পাকিস্তানিদের লাথি-ঝাঁটা খেয়ে চলে। যতই লাথি খাক, তারপরও তারা তাদের পদলেহন করবে, তারপরও তাদের পা চাটবে। এ ধরনের মানসিকতার কিছু লোক রয়েছে বলেই আমাদের দেশের মানুষ কষ্ট পায়।

ইএইচএস/এএআর/