আগামী ছয় মাসের মধ্যে হাতিরঝিল থেকে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) ভবন ভাঙতে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতির এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ রবিবার এ আদেশ দেন।
বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) বিজিএমইএ-এর পক্ষ থেকে ভবন সরাতে ৩ বছর সময়ের আবেদন করেন। এ নিয়ে শুনানি শেষে তাদের ছয় মাস সময় বেঁধে দেওয়া হলো।
শুনানিকালে আদালত বিজিএমইএ-এর আইনজীবীর উদ্দেশে বলেন, ‘ভবন ভাঙতে এই দীর্ঘ সময় নেওয়ার আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়। আপনারা তো অনেক সম্পদশালী। অফিস হিসেবে আপনারা হোটেল সোনারগাঁও অথবা শেরাটন ভাড়া নিতে পারেন।’
আদালতে বিজিএমইএ-এর পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
এ মামলায় অ্যামিকাস কিউরির দায়িত্ব পালন করেছেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। আদেশের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, 'ভবনটি ভেঙে ফেলতে আদালত ছয় মাসের সময় দিয়েছেন। আমরা এই আদেশে সন্তুষ্ট। এ আদেশের মধ্য দিয়ে প্রমাণ হল, কেউ আইনি প্রক্রিয়ার ঊর্ধ্বে নয়।'
এর আগে ৫ মার্চ বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে কত সময় লাগবে, তা ৯ মার্চের মধ্যে জানিয়ে আবেদন করতে বলেছিলেন আপিল বিভাগ। ওইদিন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ রিভিউ আবেদন খারিজ করে বিজিএমইএ ভবন ভাঙার রায় বহাল রাখেন। গত বছরের ৮ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ৩৫ পৃষ্ঠার রায় প্রকাশিত হওয়ার পর রিভিউ আবেদন করেছিল বিজিএমইএ।
২০০৬ সালের ৮ অক্টোবর থেকে সোনারগাঁও হোটেলের পূর্ব পাশে হাতিরঝিলের মধ্যে অবস্থিত ভবনটি বিজিএমইএ’র প্রধান কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
/এমটি/ইউআই/এসটি/