রবিবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইসি সচিব আবদুল্লাহ বলেন, আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ৯ কোটি ভোটারের মধ্যে স্মার্টকার্ড বিতরণ সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। আমরা ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে সব কার্ড পেয়ে যাব। কিন্তু কার্ডগুলো পারসোনালাইজেশন বা তথ্য সমৃদ্ধ করে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে হয়তো সবার হাতে পৌঁছে দিতে পারব না। আমরা যেভাবে কাজ করছি, তাতে হয়তো আরো কিছুটা সময় লাগবে। আগামী বছরের এপ্রিল-মে পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
স্মার্টকার্ড বিতরণে জনভোগান্তির বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের তথ্য মতে, এক-দুই শতাংশ নাগরিক কার্ড পেতে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। এটা খুব বড় বিষয় নয়। ডাটাবেজে এসব ভোটারদের অসম্পূর্ণতার জন্য এ রকম হচ্ছে। এ সমস্যার সমাধান এখনই সম্ভব নয়। এটা আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে।
সোমবার চট্টগ্রামে স্মার্টকার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন প্রসঙ্গে ইসি সচিব বলেন, চট্টগ্রাম জেলায় মোট ৫০ লাখ ভোটার আছেন। এর মধ্যে মহানগরী এলাকার ভোটার সংখ্যা ১৮ লাখ। সোমবার চট্টগ্রামে স্মার্টকার্ড বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে। আর ১৬ মার্চ থেকে সেন্টার থেকে ভোটারদের মধ্যে স্মার্টকার্ড বিতরণ শুরু হবে। প্রথম পর্যায়ে বিতরণের জন্য আমাদের হাতে রয়েছে ১১ লাখ ৭৬ হাজার স্মার্টকার্ড। এপ্রিল থেকে রাজশাহী ও খুলনা মহানগরী এলাকাতেও স্মার্টকার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। মে মাস থেকে জেলা সদর ও পৌরসভায় এবং এরপর উপজেলা পর্যায়ে স্মার্টকার্ড বিতরণ করা হবে।
তিনি জানান, স্মার্টকার্ড বিতরণে সবগুলো সেন্টারেই এখন সিনিয়র সিটিজেন ও শারীরিকভাবে অক্ষমদের জন্য আলাদা কিউ আছে। চট্টগ্রামে কার্ড বিতরণের প্রথম দিন থেকেই এ ব্যবস্থা থাকছে।
এদিকে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সোমবার চট্টগ্রামে স্মার্টকার্ড বিতরণ শুরু হলেও কেন্দ্রে কেন্দ্রে গিয়ে কার্ড বিতরণ শুরু হবে ১৬ মার্চ থেকে। চট্টগ্রাম মহানগরীর সকল থানার স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ সময়সূচি স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশ করা হবে। এছাড়া যে কোনও মোবাইল ফোন থেকে ১০৫ নম্বরে ফোন করে স্মার্টকার্ড বিতরণ সম্পর্কিত তথ্য জানা যাবে।
স্মার্টকার্ড পাওয়ার জন্য নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সশরীরে নির্দিষ্ট বিতরণ কেন্দ্রে যেতে হবে এবং লেমিনেটেড মূল জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে নিতে হবে। যারা ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন কিন্তু জাতীয় পরিচয়পত্র পাননি, তাদের মূল নিবন্ধন স্লিপ নিয়ে আসতে হবে। এছাড়া যাদের মূল জাতীয় পরিচয়পত্র বা নিবন্ধন স্লিপ হারিয়ে গেছে, তাদের সংশ্লিষ্ট থানায় জিডি করে, জিডির মূল কপিসহ সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করতে হবে।
নির্বাচন কমিশন গত বছরের ২ অক্টোবর দেশে প্রথমবারের মতো উন্নতমানের জাতীয় পরিচয়পত্র বা স্মার্টকার্ড বিতরণ শুরু করে। ইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে রাজধানীর ভোটারদের মধ্যে এই কার্ড বিতরণ করা হয়। রাজধানীতে এই কার্ড বিতরণের সময় ব্যাপক প্রচার না হওয়ায় কার্ড না পাওয়া, যান্ত্রিক ত্রুটিসহ নানা ধরনের বিড়ম্বনার খবর পাওয়া যায়। প্রথমদিকে রাজধানীর ভোটারদের মধ্যে কার্ড সংগ্রহের প্রবণতাও কম ছিল। যে কারণে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কার্ড বিতরণে ব্যর্থ হয় ইসি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পাড়ায়-মহল্লায় ব্যাপক প্রচারণা, ভোটারদের মধ্যে কার্ডের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধিসহ বেশ কিছু তৎপরতায় কার্ড বিতরণের হার কিছুটা বেড়েছে বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে।
ইএইচএস/এএআর/