বাংলাদেশের সাগর সীমানা বাড়লেও এর গভীরে থাকা সম্পদ সম্পর্কে এখনও বিশেষ কিছুই জানা সম্ভব হয়নি। এসব সম্পদ আহরণ ও এর উৎস সম্পর্কে নিবিড়ভাবে গবেষণার জন্য একটি বিশেষায়িত জাহাজ কেনা অত্যন্ত জরুরি ভাবছে সরকার। এজন্য একটি গবেষণা জাহাজ কেনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘আমরা সমুদ্র সীমানাসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করেছি। কিন্তু আমাদের সীমানার অন্তর্গত গভীর সাগরে থাকা সম্পদের সুষ্ঠু ও টেকসই ব্যবহারের জন্য আমাদের জ্ঞান ও সক্ষমতা প্রয়োজন।’
এজন্য সমুদ্র তলদেশে কী ধরনের সম্পদ আছে তা জানতে এবং বঙ্গোপসাগর বিষয়ে আরও নিবিড়ভাবে গবেষণার জন্য একটি বিশেষায়িত জাহাজ ক্রয় করা হবে বলে তিনি জানান।
এসব গবেষণার উদ্দেশ্য থাকবে সিসমিক সার্ভে করা, মাছের ওপর পানির তাপমাত্রার প্রত্যক্ষ প্রভাব থাকায় কোনও সময়ে কোন গভীরতায় কত তাপমাত্রা থাকে তা পরীক্ষা করা , বালি ও কাদার ঘনত্ব কতটুকু, মাছের খাবার হিসাবে ব্যবহৃত প্ল্যাংটনের পরিমাণ নির্ণয়, পানিতে অক্সিজেনের পরিমাপসহ নানা বিষয়।
ওই কর্মকর্তা বলেন, সমুদ্র অর্থনীতি বিষয়ে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।েএগুলোর মধ্যে রয়েছে, ২০১৬ সালে মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু, কক্সবাজারে সমুদ্র রিসার্চ ইন্সটিটিউট স্থাপন, মাছের ওপর গবেষণা করতে মালয়েশিয়া থেকে একটি জাহাজ ক্রয়। এছাড়াও মেরিটাইম জোন আইন সংশোধনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ একাধিক রাষ্ট্রের সঙ্গে সমুদ্র অর্থনীতি বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই করেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘বাংলাদেশ ভারত, চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সহযোগিতা চুক্তি করেছে। আমরা রাশিয়ার সঙ্গেও এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক করতে আগ্রহী। সম্ভব হলে এ বছর এটি স্বাক্ষরিত হবে।’
/এসটি/