ফেসবুকে জঙ্গি, সন্ত্রাসী ও দুর্বৃত্তদের প্রপাগান্ডা প্রতিরোধে ফেসবুকের সঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে সহযোগিতামূলক দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করার প্রস্তাব দেওয়া হলেও ফেসবুক কর্তৃপক্ষ তাতে রাজি হয়নি। তারা পুলিশকে জানিয়েছে, ফেসবুক কর্তৃপক্ষ কারও সঙ্গে কোনও চুক্তি করে না।
তবে তিন দিনব্যাপী পুলিশ প্রধানদের সম্মেলনে অংশ নেওয়া ১৪টি দেশ সম্মিলিতভাবে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমনে সমঝোতা স্মারক চুক্তি করতে একমত হয়েছে। সরকারের অনুমোদন পেলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক চুক্তির কার্যক্রম শুরু করা হবে। মঙ্গলবার দুপুরে তিন দিনব্যাপী সম্মেলন শেষে আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
সোমবার বিকালে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে পুলিশ সদর দফতরের ডিআইজি (অপারেশন) মাহবুবুর রহমান ফেসবুকের দুই প্রতিনিধির কাছে প্রস্তাব দেন, ফেসবুকে জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের প্রপাগান্ডা নিয়ন্ত্রণে ও তাদের সহজে খুঁজে বের করতে সহযোগিতামূলক কোনও চুক্তি করা যায় কিনা। ফেসবুকের সেফটি ম্যানেজার বিক্রম লেংগেহর পুলিশকে জানিয়েছেন, ‘ফেসবুক কারও সঙ্গে চুক্তি করে না।’ তাছাড়া ভেরিফায়েড আইডি, ন্যাশনাল আইডিকার্ড নম্বর ও পাসপোর্ট নম্বর বাধ্যতামূলক করা তাদের নীতি বিরুদ্ধ। তবে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রস্তাবগুলো তারা ফেসবুকের শীর্ষ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করবেন। কীভাবে একে অপরকে সহযোগিতা করা যায়, সেটা তারা বিবেচনায় নেবেন।
ফেসবুক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার পর বৈঠকে উপস্থিত পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (গোপনীয়) মনিরুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ফেসবুক একটি সোশ্যাল মিডিয়া। এ মাধ্যমে জঙ্গিরা ধর্মীয় বিষয়ে উস্কানিমূলক প্রপাগান্ডা চালায়। তারা যাতে এটি করতে না পারে সেজন্য ফেসবুক যেন তাদের সহায়তা করে।পাসপোর্ট কিংবা জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর যেন বাধ্যতামূলক করা হয়, ফেসবুক আইডি খোলার ক্ষেত্রে। নারী নির্যাতন ও ধর্মীয় বিষয়ে যেকোনও প্রচারণার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পুলিশ সহযোগিতা চাইলে যেন তারা সেটা করে। এ প্রস্তাবের পর ফেসবুকের প্রতিনিধিরা তাদের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশ পুলিশের প্রস্তাবগুলো তারা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন।’
মনিরুজ্জামান আরও বলেন,‘এ বিষয়ে ফেসবুকের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।ফেসবুকের সঙ্গে আমাদের ওয়ার্কিং রিলেশনশিপ কিভাবে আরও বাড়ানো যায়, তথ্য শেয়ারিং করা যায় এবং নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রাখা যায়, সেটা তারা করবেন। কারণ, সোশ্যাল মিডিয়া তরুণদের জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ার জন্য অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। গ্রেফতার হওয়া শতকরা ৮০ ভাগ জঙ্গি বলেছে, তারা সোশ্যাল মিডিয়ার প্রপাগান্ডায় বিভ্রান্ত হয়ে জঙ্গিবাদে জড়িয়েছে।
/জেইউ/এমপি/এপিএইচ/