কেন্দ্রীয় নির্দেশনার বাইরে আবেগ তাড়িত হয়ে কোনওরকম সিদ্ধান্তমূলক বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য হেফাজতে ইসলামের সর্বস্তরের নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন সংগঠনটির আমির শাহ আহমদ শফী । মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) গণমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে হেফাজত আমীর এ নির্দেশ দেন।
এছাড়া সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে ভাস্কর্য অপসারণের চলমান প্রতিবাদ আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার কোনও সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন হেফাজত আমির। এ ব্যাপারে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে প্রতিবাদ এবং গণমত সৃষ্টি অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
চারদিন আগে গত ১০ মার্চ চট্টগ্রামে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মঈনুদ্দিন রুহী সুপ্রিম কোর্ট চত্বর থেকে ভাস্কর্য অপসারণ না হলে আবারও আগামী ৫ মে ঢাকার শাপলা চত্বর ঘেরাও করার ঘোষণা দেন। এ ঘটনায় সারাদেশে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
হেফাজত আমিরের প্রেসসচিব মাওলানা মুনির আহমদ স্বাক্ষরিত এই বিবৃতিতে বলা হয়, ইসলাম নির্মূলবাদী চক্র হেফাজতের ঈমান-আক্বীদার আন্দোলনের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার ও রাজনৈতিক রূপদানের অপচেষ্টায় লিপ্ত। আলেম সমাজ ও তৌহিদী জনতাকে এসব অপপ্রচার সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। হেফাজতের প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কিছু ইসলাম বিদ্বেষী মহল থেকে রাজনৈতিক রূপদানের চেষ্টা করা হচ্ছে। আমাদের আন্দোলন কাউকে ক্ষমতায় বসানো বা নামানোর জন্য নয়। আমাদের রাজনৈতিক কোনও অভিলাষ নেই।
বিবৃতিতে হেফাজত আমির বলেন, ‘আমাদের যেকোনও দুর্বলতা ও অসতর্ক বক্তব্য লুফে নিতে ইসলাম নির্মূলবাদীরা অবলোকন করছে। এমনকি কোনও কোনও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীও নিজেদের অপরাধ বা ব্যর্থতা ঢাকতে হেফাজতের কাঁধে দায় চাপাতে চায়।’
আহমদ শফী বলেন, ‘ইসলাম ধর্মে তো নয়ই, এমনকি হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মতেও গ্রিক দেবীতে বিশ্বাসের সুযোগ নেই। এটা সম্পূর্ণই আদর্শিক আগ্রাসন ও ফ্যাসিবাদী আচরণ। ঈমান-আক্বিদার স্থান থেকে গ্রিক দেবী অপসারণের প্রশ্নে কোনও মুসলমানেরই চুপ থাকার সুযোগ নেই।’
আহমদ শফী আরও বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গন থেকে গ্রিক দেবী থেমিসের মূর্তি অপসারণের এই আন্দোলনে দলমত নির্বিশেষে সব নাগরিকের শামিল হওয়া জরুরি। অত্র অঞ্চলের গৌরবময় ইতিহাসের প্রতি সম্মান দেখিয়ে অবিলম্বে সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গন থেকে গ্রিক দেবীর মূর্তি অপসারণের দাবি জানান তিনি।
মাওলানা শফি বলেন, সুপ্রিম কোর্টে ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসেবে আগে থেকে দাড়িপাল্লা বিদ্যমান ছিল। সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে কোনও শিল্পকর্ম স্থাপন করতে চাইলে প্রয়োজনে সেখানে শৈল্পিকরূপ দিয়ে দাড়ি-পাল্লা অথবা ঐতিহ্য ও বৃহৎ মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে যাতে বিরোধ না হয় সেরকম কিছু স্থাপন করা যায় কিনা সেটা নিয়ে আলোচনা করুন। আমরা আপনাদেরকে সহযোগিতা করবো।’
/সিএ/এআর/টিএন/