শক্তিশালী মোদির পক্ষে মমতাকে বাগে আনা আগের থেকে সহজ

নরেন্দ্র মোদি ও মমতা ব্যানার্জিভারতের পাচঁটি বিধানসভা নির্বাচনে দুই রাজ্যে জয় পেয়েছে বিজেপি এবং অন্য দুই রাজ্যেও নিজেদের অবস্থান আগের তুলনায় সংহত করেছে। এর মধ্যে প্রভাবশালী উত্তর প্রদেশে বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে, যা ২০১৯ সালের নির্বাচনে বিজেপির জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

বিধানসভার এই নির্বাচনে বিজেপিকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন দলীয় প্রধান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এর ফলে ভারতের রাজনীতিতে তার অবস্থান  যেকোনও সময়ের থেকে অনেক বেশি মজবুত হয়েছে।

নরেন্দ্র মোদির আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠা এবং এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের আরও সুসংগঠিত হওয়ার বিষয়টি  ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে  ইতিবাচক প্রভাব রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে বাগে আনতে আগের তুলনায় মোদির হাত এখন অনেক বেশি শক্তিশালী।

ভারতে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত তোফায়েল কে হায়দার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ নির্বাচনের ফলাফলের পর নরেন্দ্র মোদির অবস্থান আগের চেয়ে  বেশি শক্তিশালী হয়েছে।’

বাংলাদেশ ও ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে পশ্চিমবঙ্গ সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারও পশ্চিমবঙ্গকে সঙ্গে নিয়েই এ সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে চায়।

তোফায়েল কে হায়দার বলেন, ‘মোদি ও মমতার সম্পর্কের একটি নিজস্ব রসায়ন আছে এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে মমতার সঙ্গে দর কষাকষি করার ক্ষেত্রে মোদি সুবিধাজনক অবস্থায় আছেন। তবে এর মানে এই নয় যে, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে এ মুহূর্তে বাংলাদেশের সব উদ্বেগ দূর করা সম্ভব।’

তোফায়েল কে হায়দার আরও বলেন, ‘মোদি চাইলে অনেক পদক্ষেপ নিতে পারেন। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে তিনি কতটুকু এগিয়ে নিতে চাইবেন, সেটি ভবিষ্যৎ বলবে।’

আরেক সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মাদ জমির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিজেপি ভালো করার কারণে রাজ্যসভায় তার আসন বাড়বে এবং এর ফলে তার পক্ষে বিভিন্ন আইন পাস করিয়ে নেওয়া আগের চেয়ে অনেক বেশি সহজ হবে। এতে করে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে তিস্তা চুক্তি, যৌথ পানি ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ও আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মোদি আরও কঠিন পদক্ষেপ নিতে, আগের থেকে বেশি সক্ষমতা অর্জন করেছেন।’

বাংলাদেশ ও ভারত উভয়েই জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে উল্লেখ করে মোহাম্মাদ জমির বলেন, ‘মমতা ব্যানার্জির নিজস্ব রাজনীতির কাছে দু’দেশের  দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জিম্মি হয়ে আছে। আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠা মোদি এই জিম্মি দশার অবসানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন কিনা, সামনের দিনগুলোতে তার তৎপরতাই সেটি বলে দেবে।’

মোহাম্মাদ জমির আরও বলেন, ‘মোদি বর্তমান পরিস্থিতিতে মমতা ব্যানার্জিকে বাদ দিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেবেন না। কিন্তু এখন মমতা ব্যানার্জিকেও আগের থেকে মোদি প্রসঙ্গে অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।’

/টিআর/এপিএইচ/