গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের উদ্যোগ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের

একাত্তরের গণহত্যা (ছবি- সংগৃহীত)

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বর্বরোচিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড স্মরণে দিনটিকে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ সংক্রান্ত প্রস্তাব এরই মধ্যে জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। শুধু এতেই সীমাবদ্ধ থাকতে চাইছে না সরকার, বরং স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর দ্বারা সংঘটিত নিকৃষ্ট হত্যাকাণ্ডগুলোকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে আন্তর্জাতিক মহল যাতে স্বীকৃতি দেয় সে জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে। 

জানা গেছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুইজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে নিউইয়র্ক ও জেনেভা পাঠানো হয়েছে এ বিষয়ে আলোচনার জন্য। এছাড়া এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন আদায়ে কৌশল নিয়ে আলোচনার জন্য  পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের থিঙ্ক ট্যাঙ্ক বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ আগামী ২৮ মার্চ একটি সেমিনারের আয়োজন করেছে।

গত ১১ মার্চ সরকারের শরিক দল জাসদের শিরীন আখতারের উত্থাপিত এক প্রস্তাবে বলা হয়, ‘সংসদের  অভিমত এই যে, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাত্রিতে বর্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কর্তৃক সংঘটিত গণহত্যাকে স্মরণ করে ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস ঘোষণা করা হোক। আন্তর্জাতিকভাবে এ দিবসের স্বীকৃতি আদায়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হোক।’

জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ এ বিষয়ে অতীতে সোচ্চার ছিল না। কিন্তু এ সরকার ক্ষমতায় আসার পর মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য বিচার প্রক্রিয়া শুরু করলে ১৯৭১ সালে গণহত্যা হয়েছিল সেটি পাকিস্তান অস্বীকার করা শুরু করে। শুধু তাই না পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছে এবং পাকিস্তানের সংসদে এ বিষয়ে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, অতীত মুছে ফেলার এ বিষয়টি মেনে নেওয়া যায় না এবং আমরা চাই বাংলাদেশে যে গণহত্যা হয়েছিল সেটির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং সে বিষয়ে ইতিমধ্যেই আমরা কাজ শুরু করেছি।

তিনি বলেন, আমরা জানি এ বিষয়ে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জোরালো বিরোধিতা আসবে কিন্তু আমরা আমাদের সমমনা বন্ধু দেশগুলিকে সঙ্গে নিয়ে এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বীকৃতি আদায়ের চেষ্টা করবো।

/টিএন/