শহীদ মিনারে শ্রদ্ধায় সিক্ত মিজারুল কায়েস

17408063_10210549523872671_200090983_o

ব্রাজিলে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মোহাম্মদ মিজারুল কায়েসের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এছাড়া সরকার ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্টজনেরা শ্রদ্ধা জানান।

সোমবার সকাল ১১টায় মিজারুল কায়েসের মরদেহ শহীদ মিনারে রাখা হয়। সেখানে তার পরিবার পরিজনও উপস্থিত ছিলেন। 

শ্রদ্ধা জানাতে আসেন শিশু সাহিত্যিক আলী ইমাম।  ধরা গলায় বলেন, ‘কায়েসের সঙ্গে আমার পরিচয় বহু দিনের। তার মতো মেধাবী মানুষ দেশে খুব কমই আছে। মেধাবী কূটনীতিক ছাড়াও তার বিচরণ ছিল সাংস্কৃতিক অঙ্গনে। এমন মানুষ এত দ্রুত চলে যেতে পারে তা ভাবতেও পারিনি।’

17407955_10210549526752743_884040747_o

মিজারুল কায়েসের বড় বোন ফাহমিদা মঞ্জি বলেন, ‘আমার ছোট ভাইকে এভাবে হারাবো চিন্তাও করিনি। আজ চোখের সামনে আমার ছোট ভাই শুয়ে আছে। এটা আমাকে দেখতে হচ্ছে।’

ছোট ভাইয়ের মেধা-মননের প্রশংসা করে তিনি বলেন,‘তার মতো মেধাবী মানুষ খুব কমই হয়। সে যেখানে যে কাজই করেছে খুব মনযোগ দিয়ে করেছে। তার অবস্থান অনেক উপরে।’

কায়েসের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, পথ নাট্য পরিষদ, বাংলা একাডেমি, সমকাল, জাসদ ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সরকারি বেসরকারি সংগঠন। এছাড়া নাট্য ব্যক্তিত্ব রামেন্দ্র মজুমদার, ত্রপা মজুমদার, আতাউর রহমানও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

17431368_10210549523552663_1805506819_o

আতাউর রহমান বলেন, ‘কায়েসের সঙ্গে আমার ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে পরিচয়। আমার চেয়ে সে বয়সে ছোট হলেও তাকে আমি বন্ধুই ভাবতাম। তাকে হারিয়ে আমরা শোকাহত।’

মিজারুল কায়েসের বড়ভাই মেজর জেনারেল (অব.) ইমরুল কায়েস বলেন, ‘বনানীতে আমাদের মা-বাবার কবরের পাশে মঙ্গলবার আসরের নামাজের পর তাকে (মিজারুল কায়েস) দাফন করা হবে।’

এছাড়া সোমবার বাদ আছর গুলশানের আজাদ মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়াতে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের অংশগ্রহণে তার তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে ঢাকায় এনে মঙ্গলবার বিকালে বনানী করস্থানে তার দাফন করা হবে।

17408149_10210549524232680_2125024900_o

প্রসঙ্গত, সাবেক এই পররাষ্ট্র সচিবের মরদেহ কাতার এয়ারওয়েজের একটি বিমানে রবিবার রাতে দেশে আনা হয়েছে। এর আগে বাজ্রিলের ব্রাসিলিয়ায় পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় তাকে শেষ বিদায় জানানো হয়।

গত ১১ মার্চ স্থানীয় ব্রাসিলিয়ার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মিজারুল কায়েস মারা যান। সেখানে ১৫ মার্চ তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

১৯৮২ ব্যাচের বিসিএস কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজারুল কায়েস এর আগে পররাষ্ট্রসচিব ছাড়া যুক্তরাজ্যে হাইকমিশনার এবং রাশিয়ায় রাষ্ট্রদূতসহ দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন।

 

/এসটি/