রাজউক ও প্রকল্প বাস্তাবয়নকারী সংস্থা সেনাবাহিনী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে ২৪ জন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে ১০০ কোটি টাকার চেক দেওয়া হয়। এর আগেও একইস্থানে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫ জন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির মাঝে ৫০ কোটি টাকার চেক বিতরণ করা হয়।
গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, ‘কুড়িল থেকে বালু নদী পর্যন্ত ৩০০ ফুট রাস্তার (পূর্বাচল সংযোগ সড়ক) দুই পাশে ১০০ ফুট চওড়া খাল খনন করা হবে। এর ফলে নিকুঞ্জ, জোয়ার সাহারা, ডিওএইচএস, ঢাকা সেনানিবাস, বিমানবন্দর, কালাচাঁদপুর, কুড়িল ও কুড়াতলী এলাকার জলাবদ্ধতা দূর হবে। পর্যাপ্ত নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় বর্তমানে বর্ষা মৌসুমে এসব এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে থাকে।’
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ১৩ দশমিক ৬৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এ খালের সঙ্গে ১৩ কিলোমিটার সার্ভিস রোড, ৩৯ কিলোমিটার পায়ে হাঁটার পথ, চারটি ইউলুপ, ১৩টি আর্চ ব্রিজ, ১৬টি পথচারি ব্রিজ, ১৩ কিলোমিটার সীমানা প্রাচীর, পাঁচটি স্লুইসগেট ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। এ জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ২৮৬ কোটি ৯১ লাখ টাকা।
খাল খননের জন্য প্রায় ৯০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। জমি অধিগ্রহণে ১২০০ ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং ক্ষতিপূরণ বাবদ ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৪ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে সময় লাগবে দুই বছর। সরকারি অর্থায়নে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এ প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে।
গণপূর্ত মন্ত্রী বলেন, ‘এটি নিছক কোনও খাল নয়। এ খাল খনন শেষ হলে ঢাকা শহরের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের জলাবদ্ধতা দূর হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এ খালকে নান্দনিকভাবে সাজানো হবে এবং নগরবাসীর জন্য এই খাল স্বস্তিকর একটি কেন্দ্রে পরিণত হবে।’
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক, রাজউকের চেয়ারম্যান এম বজলুল করিম চৌধুরী, সেনাবাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকল্প পরিচালক লে. কর্নেল নিজাম উদ্দীন ও ঢাকার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দীন প্রমুখ।
/ওএফ/এমএনএইচ/