বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার প্রধান আসামি ওমর শরীফ ও তার সহযোগী মিন্টুর মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবনের রায় ঘোষণা করেন। বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন হাইকোর্ট। এছাড়া তাদের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও দুই বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
রায় ঘোষণার শুরুতে আদালত বলেন, ‘এ মামলায় শাস্তি নির্ধারণ অনেক কঠিন ছিল। কেননা আসামিদের মধ্যে ক্রিমিনাল অ্যাক্টিভিটিজ ছিল না এবং চিকিৎসকরা এই ধরনের শারীরিক পরিস্থিতির চিকিৎসা কিভাবে করবেন সেটা নিয়েও কনফিশনে ছিলেন। তবে তারা বলেছেন, শরীরে বাতাস ঢোকানোর কারণে শরীরের অভ্যন্তরে সব অঙ্গ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।’
আসামিদের মধ্যে ‘ক্রিমিন্যাল অ্যাক্টিভিটি’ না থাকায় সাজা পরিবর্তন হয়েছে উল্লেখ করে আসামিপক্ষের আইনজীবী গোলাম মোহম্মদ চৌধুরী আলাল রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘আমরা আপিল করবো। যে ব্যক্তি রাকিবকে হাসপাতালে নিয়ে রক্ত দিয়েছিল সে হত্যা করতে পারে না। আসামিরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল।’
২০১৫ সালের ৮ নভেম্বর শিশু রাকিব (১২) হত্যার দায়ে প্রধান আসামি শরীফ ও তার সহযোগী মিন্টুকে ফাঁসির আদেশ দেন আদালত। খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক দিলরুবা সুলতানা এ রায় ঘোষণা করেন। মামলায় অভিযুক্ত অপর আসামি শরীফের মা বিউটি বেগমকে খালাস দেন। পরে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা রায় বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করে। পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের জন্য হাইকোর্টে মামলাটি ডেথ রেফারেন্স আকারে পাঠানো হয়।
হাইকোর্টে আসামিপক্ষের শুনানি শেষ করেন আইনজীবী গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী আলাল ও এসএম মোবিন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল হক জহির, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আতিকুল হক সেলিম ও বিলকিস ফাতেমা।
ইউআই/এসটি/
আরও পড়ুন: