মানব উন্নয়ন সূচকে তিন ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ

ইউএনডিপির মানব উন্নয়ন সূচক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা মন্ত্রী

মানব উন্নয়ন সূচকে আগের চেয়ে তিন ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। গড় আয়ু বৃদ্ধি, মাথাপিছু আয়, শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়নসহ সামাজিক বিভিন্ন সূচকে উন্নতি করেছে বাংলাদেশ।

বুধবার আগারগাঁওয়ে এনইসি সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিকল্পনা কমিশন ও (জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি) ইউএনডিপি যৌথভাবে ‘মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন-২০১৬’ প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ তথ্য দেওয়া হয়। পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেন।

২০১৫ সালের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, বিশ্বের ১৮৮টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৯তম। আগের বছর অর্থাৎ ২০১৪ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৪২তম। ফলে বাংলাদেশ তিন ধাপ এগিয়েছে।

বলা হয়েছে, এ বছর বাংলাদেশের সঙ্গে একই অবস্থানে রয়েছে ঘানা ও জাম্বিয়া। এদিকে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে মানব উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশ নেপাল ও পাকিস্তানের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে। তবে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, ভারত ও ভুটান।

প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল। তিনি বলেন, আমরা তিন ধাপ ওপরে উঠেছি। আশাকরি সামনে আরও এগিয়ে যাওয়ার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। বাংলাদেশ গত ১৩ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে দশমিক পাঁচ শূন্য শতাংশের ওপর পয়েন্ট নিয়ে মধ্যম মানব উন্নয়ন ক্যাটাগরিতে আছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ভারত ও পাকিস্তানের মতো উন্নয়নশীল দেশ থেকেও আমরা খুব বেশি পিছিয়ে নেই। পাকিস্তানের অবস্থান ১৪৭ এবং ভারত আছে ১৩১। আমরা পাকিস্তানের চেয়েও অনেক এগিয়ে রয়েছি। বাংলাদেশের জিডিপি’র হার উল্লেখ করে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে আরও উন্নয়নের মাধ্যমে সামনের দিনগুলোতে এই সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান আরও ভালো হবে বলে আশা করেন তিনি। জলবায়ু পরিবর্তনকে সামাজিক উন্নয়নে বড় বাধা উল্লেখ করে উন্নত দেশগুলো যেন দায় এড়াতে না পারে সে জন্য ইউএনডিপির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আশা করেন তিনি।  

ইউএনডিপির এবারের মানব উন্নয়ন সূচকের মূল প্রতিপাদ্য, ‘সবার জন্য মানব উন্নয়ন’। ১৯৯০ সাল থেকে এ সূচক তৈরি করে আসছে ইউএনডিপি।

ইউএনডিপির মানব উন্নয়ন সূচক নির্ণয়ে মূল মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে নাগরিকদের প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল, শিক্ষা ও মাথাপিছু জাতীয় আয়। যেসব দেশের মানুষের প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল বেশি, শিক্ষাব্যবস্থার মান উন্নত ও মাথাপিছু আয় বেশি, সেসব দেশ এ সূচকের তালিকার শীর্ষ পর্যায়ে রয়েছে। সূচকে সবার শীর্ষে রয়েছে নিশীথ সূর্যের দেশ হিসেবে পরিচিত নরওয়ে। এর পরের অবস্থানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি, সিঙ্গাপুর ও ডেনমার্ক।

বৈশ্বিক এ প্রতিবেদনে বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নের প্রশংসা করা হয়। এতে বলা হয়,  ২০১৬ সালের মধ্যে কর্মজীবী নারীর সংখ্যা ৩৪ শতাংশ থেকে ৮২ শতাংশ করার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। এসিড সন্ত্রাস প্রতিরোধে বাংলাদেশ সরকারের নেওয়া আইনি উদ্যোগও আলোচিত হয় ওই প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষাসহ সূচকে অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন বিষয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নাম এসেছে গ্রামীণ ব্যাংক, ব্র্যাক ও বিকাশের মতো প্রতিষ্ঠানের। সামাজিক নিরাপত্তায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচিরও প্রশংসা করা হয়েছে প্রতিবেদনটিতে।

প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্কে জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন কার্যালয়ের পরিচালক ড. সেলিম জাহান।

আরও উপস্থিত ছিলেন, গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ড. রাশেদা কে চৌধুরি, বিআইডিএস এর পরিচালক ড. খান আহমদ সাঈদ মুরশিদ প্রমুখ। 

/আরএআর/টিএন/