বুধবার (৫ এপ্রিল) ১৩৬তম আইপিইউ সম্মেলন শেষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার বলেন, ‘আমরা সফল সম্মেলন করতে পেরেছি। এই সম্মেলনের মাধ্যমে বিশ্বের কাছে আমরা তুলে ধরতে পেরেছি যে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। গণতন্ত্রে সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে। এবারের সম্মেলনে নেওয়া পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নে উদ্যোগী হলে আমরা লক্ষ্য অর্জন করতে পারব।’
সংবাদ সম্মেলনে আইপিইউ প্রেসিডেন্ট সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে জঙ্গি হামলা সত্ত্বেও আমরা এখানে এক হয়েছি। নিরাপত্তা সংকটের মধ্যে আমরা এ সম্মেলন সফলভাবে শেষ করে ভয়কে জয় করেছি। আগামীতেও এ ধরনের যেকোনও ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশ্বের পার্লামেন্টারি ফেরাম ঐক্যবদ্ধ হয়ে দাঁড়াবে। সন্ত্রাসবাদের অশুভ তৎপরতায় আমরা ভয় পেয়ে বসে থাকব না।’
রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবুর্গে আইপিইউ’র ১৩৭তম সম্মেলনের কথা উল্লেখ করে সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘সেখানেও সন্ত্রাসীরা হামলা করেছে। এজন্য কি আমরা বসে থাকব? না, এই ঢাকার সম্মেলন আমাদের বলছে যে আমরা সেখানে যাব। এই সম্মেলন প্রমাণ করেছে, আয়োজক দেশের সংসদ যদি রাজি থাকে তবে আমরা বিশ্ব গণতান্ত্রিক সম্প্রদায় যেখানেই হোক না কেন যাব।’
নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যেও সম্মেলন আয়োজেনের কারণ ব্যাখ্যা দিয়ে আইপিইউ প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে আমরা এই সম্মেলন বাতিল করতে পারতাম। কিন্তু ভবিষ্যতে সেখানে সম্মেলন হবে, সেখানেও যে এই ধরনের ঝুঁকি থাকবে না, তার নিশ্চয়তা কী? আমরা সংসদ সদস্যরা যদি সন্ত্রাসী হামলা বা নিরাপত্তা ইস্যুতে ভীত হই, তাহলে এগুলো দমনে সরকারকে কী করে সহযোগিতা করব? আমরা এই সম্মেলনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলাম। সেটাকে সফল করেছি।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উৎসাহ ও নির্দেশনা ছাড়া এই সম্মেলন সফল হতো না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সাবেক হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সম্মেলন করতে পারায় একজন বাংলাদেশি হিসেবে আমি গর্বিত। আমরা সফলভাবে এই সম্মেলন শেষ করতে পেরেছি। আগে-পরে ঢাকার বাইরে কিছু ঘটনা ঘটলেও ঢাকা ছিল সম্পূর্ণ নিরাপদ।’
এই সম্মেলনের অর্জন প্রসঙ্গে আইপিইউ প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এই সম্মেলনের সবচেয়ে বড় অর্জন হচ্ছে অংশগ্রহণকারী সব দেশই বাংলাদেশের প্রশংসা করেছে। বাংলাদেশও যে পারে, এই সম্মেলন তারই প্রমাণ। এটা জাতি হিসেবে আমাদের মর্যাদাকে ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে গেছে। বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ একসময় পিছিয়ে পড়া ও দরিদ্রপীড়িত দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল। বাংলাদেশ তার থেকে বেরিয়ে এসে অনেক এগিয়ে গেছে। বিশ্ববাসী বাংলাদেশে এসে তা স্বচক্ষে দেখে গেলেন।’
এর আগে সমাপনী ভাষণে নিরাপত্তার ঝুঁকির প্রসঙ্গ টেনে ইউরেশিয়ার পক্ষে রাশিয়ার প্রতিনিধি বলেন, ‘বাংলাদেশে এই বড় সম্মেলনটি সম্ভব হবে কিনা, তা নিয়ে আমি সন্দিহান ছিলাম। আমাদের সেই সন্দেহকে মিথ্যা প্রমাণ করে ঢাকা আইপিইউয়ের মতো বড় ফোরামের সফল সম্মলন করতে পেরেছে।’
এশিয়া ও প্যসিফিক অঞ্চলের পক্ষে ভারতের প্রতিনিধি বলেন, ‘আমি আগেও আইপিইউর একাধিক সম্মেলনে গিয়েছি। কিন্তু আমার দেখা অন্য সম্মেলনগুলোর তুলনায় ঢাকার সম্মেলন অনেক বেশি সফল হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, আমার সঙ্গে এই সম্মেলনে আসা অন্য দেশগুলোর প্রতিনিধিদের মনোভাবও একই হবে। আমি এখানে অভিভূত হয়েছি। বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য উঠে এসেছে মেলায়। আমরা বুঝতে পেরেছি, এই সম্মেলনটি করতে কতটা শ্রম দিতে হয়েছে বাংলাদেশ সরকারকে।
/ইএইচএস/টিআর/