বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ওলামা মাশায়েখ মহাসম্মেলনে শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘সৌদি আরবের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে মুসলমানদের হজে যাওয়ার অনুমতি নিয়েছিলেন জাতির পিতা। হজে পাঠানোর জন্য ‘হিজবুল বাহার’ নামে তিনি একটি জাহাজও ক্রয় করেছিলেন। অল্প খরচে তখন মুসলমানদের হজে পাঠানো হতো।তাকে নির্মমভাবে হত্যার পর যারা ক্ষমতায় এসেছিল, তারা হজের জন্য নির্ধারিত জাহাজকে প্রমোদতরী হিসেবে ব্যবহার শুরু করে। তারা মুখে ইসলাম রাখলেও কাজ করেছে ইসলামবিরোধী। ১৯৭৫ সালের পর থেকে ধর্ম নিয়ে ব্যবসা হয়েছে। কিন্তু পবিত্র ধর্মের প্রচার প্রসারে কিছু করেনি তারা। জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদের উত্থান তারাই করে।’
শেখ হাসিনা জানান, ইসলাম ধর্ম যেন ঠিকভাবে প্রচার হয় এবং মানুষ যেন ইসলামের সঠিক শিক্ষা পায় সেজন্য ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বিশ্ব ইজতেমা যেন বাংলাদেশে হয়, এই ইজতেমার জন্য জায়গা নির্ধারণ, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড প্রতিষ্ঠাসহ দেশকে ওআইসির সদস্যভুক্ত করেছিলেন তিনি।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে ইসলাম থাকবে না বলে দলটি সম্পর্কে অপপ্রচার করা হয় বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ৭৫-এর ঘটনার ২১ বছর পর ক্ষমতায় আসে। এসেই ৩৪টি জেলায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের যেসব কর্মকর্তা ছিলেন, প্রতিটি জেলায় যাতে দফতর হয় এবং সরকারিভাবে যেন তারা বেতন পান সে ব্যবস্থা করে দিয়েছিলাম। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে মিনার করার কাজ শেষ করি। মা-বোনদের নামাজের ব্যবস্থা হয়েছে। ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসতে পারিনি। সেই মিনারের কাজ বিএনপি-জামাত সরকার বন্ধ করে দেয়। আমি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় করে দিয়েছি। হজের কার্যক্রম ডিজিটাল ও হজ ক্যাম্পের উন্নয়ন করেছি।’
এদিকে ওলামা সম্মেলনে সৌদি আরবের মসজিদুল হারাম ও মসজিদুন নববী কর্তৃপক্ষের ভাইস প্রেসিডেন্ট শায়খ ড. মুহাম্মদ বিন নাসের আল খুযাইম ও মসজিদুন নববীর ইমাম ও খতিব শায়খ ড. আবদুল মুহসিন বিন মুহাম্মদ আল কাশিম গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখায় তাদের প্রতি ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে এ দুই অতিথিকে পাঠানোর জন্য সৌদি আরবের বাদশাহকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক মজবুত রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।
এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সম্মেলনস্থলে আসতে শুরু করেন ওলামা মাশায়েকগণ। সম্মেলনস্থলের ভেতরে ও বাইরে পুলিশ ও গোয়েন্দারা নিরাপত্তায় নিয়োজিত আছেন। ব্যাপক তল্লাশির মাধ্যমে আগতদের সম্মেলনস্থলে প্রবেশ করানো হয়।
ওলামা মহাসম্মেলন ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের অংশ হিসেবে প্রতিটি প্রবেশপথে বসানো হয়েছে আর্চওয়ে গেইট। এছাড়া বাইরেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আশেপাশে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে তৈরি করা হয়েছে নিরাপত্তা বলয়। পুরো এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে তিনটি অস্থায়ী ক্যাম্প থেকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এছাড়া যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় সোয়াট ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরাও রয়েছেন।
/পিএইচসি/ইউআই/জেএইচ/