ভারতের শহীদ সৈনিকদের রক্তের ঋণ শোধ করার প্রয়াস

গণভবনে ভারতীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী (ফাইল ফটো)মহান মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের গর্ব এবং সেই গর্বের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অংশীদার ভারত। ভারত শুধু আমাদের অস্ত্র, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ অথবা এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয়ই দেয়নি, তাদের সৈনিকরা এদেশ স্বাধীন করার জন্য রক্তও দিয়েছেন।

দীর্ঘ ৪৫ বছর পরে ওই ভারতীয় শহীদদের রক্তের ঋণ কিছুটা শোধ করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। 

মোট এক হাজার ৬৬১ জন ভারতীয় শহীদকে সম্মাননা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তার ধারাবাহিকতায় শনিবার এদের মধ্যে সাতজন শহীদ পরিবারকে দিল্লির মানেকশ সেন্টারে মুক্তিযুদ্ধ সম্মান প্রদান করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরবর্তীতে সবাইকে এ সম্মাননা দেওয়া হবে। 

যে সাতজনকে প্রাথমিকভাবে সম্মাননা দেওয়ার জন্য বাছাই করা হয়েছে তাদের মধ্যে চারজন সেনাবাহিনীর, একজন নৌবাহিনীর, একজন বিমানবাহিনীর এবং একজন বিএসএফ জওয়ান।

সেনাবাহিনীর চারজনের মধ্যে আছেন শহীদ ল্যান্স নায়েক আলবার্ট এক্কা, মেজর অনুপ সিং গোলাট, সুবেদার মালকিত সিং এবং হাবিলদার সুগন সিং। নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট সমীর দাস, বিমানবাহিনীর স্কোয়াড্রন লিডার এবি সুমন্ত এবং বিএসএফ-এর ল্যান্স নায়েক মোহিনী রঞ্জন চক্রবর্তী। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধ গবেষক এবং লেখক অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী সাজ্জাদ আলী জহির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘২০১৫ সালের মে মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ভারতীয়দের সম্মাননা জানানোর বিষয়ে অনুমতি প্রদান করেন।’

এর আগে পৃথিবীর কোনও দেশ অন্য দেশের সৈনিকদের সম্মাননা দেয়নি বলেও তিনি জানান।

তিনি আরও জানান, ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর বাংলাদেশের তৎকালীন সরকার এবং ভারতের সরকার একটি যৌথ বাহিনী গঠনের বিষয়ে একমত হয়েছিল। এরপর ডিসেম্বরের ৩ তারিখে মিত্রবাহিনী হিসেবে ভারত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে।

/এসএ/